আর কোনো লুকোছাপা নয়, কানা-ঘুষা নয়, নয় কোনো তর্ক-বিতর্ক, লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা! কথাটি আর কারো নয়, ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিওর। আর্জেন্টাইন জাদুকরের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি, বিশ্বকেও বললেন মেনে নিতে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসির দুর্বার পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা শুভসূচনা করেছে ৩-০ গোলে জিতে। ম্যাচটিতে হ্যাটট্রিকের আলো ছড়িয়ে, ইতিহাসের অনেক পাতায় ওলট-পালট করে দিয়েছেন মেসি।
ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে নেমে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয় বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়া দিয়ে শুরু মেসির। এরপর, বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিকের আনন্দে ডানা মেলেন তিনি। তাতে, তিন গোলের ঘাটতি পুষিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান। রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া স্রেফ তার জন্য এখন সময়ের ব্যাপার।
৩৯ ছুঁইছুঁই মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার চূড়ায় আগে থেকে ছিলেন, এখন গোল ১২০টি। এই বিশ্বকাপ শেষে চূড়ার উচ্চতা আর কতখানি বাড়ে, কে জানে!
রেকর্ডের এত পাতায় আঁচড় ফেলে, আর্জেন্টিনাকে শিরোপা ধরে রাখার যাত্রায় শুভসূচনা এনে দিয়ে, প্রশংসার স্রোতে ভাসছেন মেসি। অথচ, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে দলে যোগ দিয়েছিলেন অস্বস্তি নিয়ে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি নেমে গোল করেছিলেন বটে, কিন্তু শুরুর ম্যাচে তার খেলা নিয়ে একটু হলেও ছিল অনিশ্চয়তা। তবে মেসি ঠিকই নামলেন, খেললেন এবং যেন এক ফুৎকারে প্রতিপক্ষকেও দিলেন উড়িয়ে!
বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে অদম্য ছুটে চলা এই মেসিকে দেখে রোনালদোর মুগ্ধতা যেন ছাপিয়ে গেল সবকিছু। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী এই স্ট্রাইকার মেসির সর্বকালের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে একটু-আধটু উস্কে ওঠা বিতর্কের ইতি টেনে দিলেন।
রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য এবং যে মানুষ এটি ভাঙল, তা বিশ্বের কোনো ফুটবল সমর্থককেই বিস্মিত করেনি। আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, (এবারের আসরেও ফেভারিট)।
যখনই মেসি মাঠে নামে, তখনই সবকিছু ঐতিহাসিক এবং দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। বিশ্বের এখন সব লুকোছাপা বন্ধ করে মেনে নেওয়া উচিত, সে-ই সর্বকালের সেরা।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসির নিজেকে মেলে ধরা রাতটি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, মনে করেন এই ব্রাজিলিয়ান গ্রেট।
সে প্রতিটি মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করছে এবং বিশ্বকাপেও। তারপরও তাকে (তার শ্রেষ্টত্ব) নিয়ে সংশয় রয়ে যাবে। কিন্তু, সে যে রাতটি কাটাল, এটা ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক রাত হিসেবে রয়ে যাবে।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার চূড়ায় ওঠার আগে দ্বিতীয় গোলটি করে মেসি পেছনে ফেলে দেন রোনালদোকে (১৫টি)। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে মেসিকেও প্রশ্ন করা হয়। রোনালদোকে নিজের দেখা ‘গ্রেট ফুটবলার’-এর মালা পরিয়ে দেন তিনিও।
রোনালদো, আমি যাদের খেলা দেখেছি, সেই গ্রেটদের মধ্যে তিনি একজন। (সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়) তিনি শীর্ষে নন, তাই এটা স্রেফ পরিসংখ্যানই।