রান্নার সময় অসাবধানতাবশত কড়াইতে আগুন ধরে তরকারি পুড়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহকর্ত্রী পোড়া কড়াই দিয়ে গৃহকর্মীর শরীরে ছ্যাঁকা দেন। পাশাপাশি তাকে চড়-থাপ্পড় মারাসহ বারবার কান ধরে ওঠবস করানো হয়।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় পুলিশ দম্পতির বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হলেন পুলিশের উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা মিত্র। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত। তার স্বামী সঞ্জয় কুমার সরকারও একই থানার এএসআই। এ ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানালা দিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য দেখে কয়েকজন সংবাদকর্মী ও নারী নেত্রী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে নির্যাতিত গৃহকর্মী মিলন দাশকে উদ্ধার করে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে পপি রানী সাহা ও সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় দুজনকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সঞ্জয়কে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর বুধবার রাতে পপি রানী সাহা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ডান হাতসহ শরীরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের ৬ নম্বর সড়কের ৪১৯ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। তাদের সন্তানের দেখাশোনার জন্য পপির বাড়ি থেকে মিলন দাশকে আনা হয়েছিল। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি তাদের সঙ্গেই ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নারী নেত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে বাড়ির দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকে চিৎকার শোনা যায়। জানালা দিয়ে দেখা যায়, এক নারীকে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর একটি কড়াই তার পিঠ ও পেটের সঙ্গে চেপে ধরা হয়। পরে কয়েকজন দ্বিতীয় তলায় গেলে পপি রানী দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। ৯৯৯-এ ফোন করার পর তার স্বামী সঞ্জয় বাড়িতে এসে স্ত্রীর আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ঘরে প্রবেশের পর মিলনের চোখের নিচেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
এ সময় পপি রানী দাবি করেন, তরকারি পুড়ে যাওয়ায় রাগের মাথায় তিনি কড়াই দিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন, তবে মারধর করেননি। তিনি আরও বলেন, গৃহকর্মীকে পরিবারের সদস্যের মতোই দেখেন এবং ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির জানান, বুধবার দুপুরে মিলনকে উদ্ধার করে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পপি রানী অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আর সঞ্জয়কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।