গাজীপুরের শ্রীপুরে অটোরিকশা দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় এক নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার হাসপাতাল সড়কের সাগর টেলিকমের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আহতরা হলেন মাধুরী আক্তার (২৪) ও তার দেবর রিয়াদ (১৮)।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে আহত মাধুরী আক্তারের বাবা স্বপন (৫০) শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ৬ জনকে চিহ্নিত এবং আরও ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মাধুরী আক্তার তার দেবর রিয়াদকে নিয়ে কাওরাইদ বাজার থেকে অটোরিকশায় করে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি হাসপাতালে অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন। হাসপাতাল সড়কের সামনে রিকশা দাঁড় করিয়ে ভাড়া পরিশোধের সময় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার শহিদুল্লাহ (৪০) এর সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়।
এরপর শহিদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা লোহার পাইপ, বাঁশের লাঠি ও কাঠের চেলি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এক পর্যায়ে মাধুরী আক্তারকে মাটিতে ফেলে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। হামলায় তাদের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
এছাড়া হামলাকারীরা প্রায় সোয়া লাখ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন এবং ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—শহিদুল্লাহ (৪০), তুষার (৩০), সাগর (৩৫), ফয়সাল মিয়া (২০), আরশাদ (৩৫) ও আরিফ (২৯)। তারা সবাই শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আসামিরা পালিয়ে যায়। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।