দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও মানবসৃষ্ট পরিবেশগত অভিঘাতে উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। এতে উপকূলের পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকা গভীর সংকটে পড়ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব দাবি ও উদ্বেগ তুলে ধরেন বক্তারা। গবেষণা সংস্থা ‘ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।
তিনি বলেন, “উপকূলে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ আঘাত হানছে। একই সঙ্গে লবণাক্ততা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট বাড়ছে। এতে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের দাবি সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলীয় সংকট যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এ অবস্থায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডিআরডিএফ-এর সভাপতি, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, উপকূলের সংকট এখন শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জেলে, কৃষক, মৎস্যসম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উদ্ধার ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা সময়ে যথাযথ সহায়তা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উপকূলের জীবিকা ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল এখনো উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। বাজেট পাসের আগেই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক জোন গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার, সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণ এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া অবৈধ জাল বন্ধ করে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানানো হয় কর্মসূচিতে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ এবং ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতানা শাপলা।