জিটুজি (গভমেন্ট টু গভমেন্ট) পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মতো।
এই তেল ক্রয়সংক্রান্ত সমঝোতা চূড়ান্ত করতে আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
সরকারি একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক কম খরচে তেল ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে কোনো জ্বালানিমন্ত্রীর বিদেশ সফর এবারই প্রথম। প্রতিনিধিদলে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান, জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্মসচিব এবং বিপিসির কমার্শিয়াল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাও থাকবেন।
বিপিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর প্রায় অর্ধেক কেনা হয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে, আর বাকি অংশ সংগ্রহ করা হয় জিটুজি পদ্ধতিতে।
জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির সঙ্গে ১০টি দেশের তেল সরবরাহসংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বছরে দুই ধাপে—জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে—তেল সরবরাহ করে থাকে।
এবারের সমঝোতায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে অংশ নেবে ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি, কিউ ট্রেডিং এবং পেটকো মালয়েশিয়া।
জ্বালানি খাতের একটি সূত্র জানিয়েছে, জিটুজি পদ্ধতিতে তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল তেলের দাম নিয়ে দরকষাকষি হবে না। প্ল্যাটস (Platts) মূল্যসূত্র অনুসারে বিপিসি মূল্য পরিশোধ করবে। তবে জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রিমিয়াম, জাহাজ ভাড়া, বীমা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়াও প্রায় সম্পন্ন করেছে বিপিসি। এতে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের প্রিমিয়াম ১৩.১৮ সেন্ট থেকে ১৪.৭৮ সেন্টের মধ্যে নির্ধারিত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকালীন সময়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় সরবরাহকারীরা এই প্রিমিয়াম প্রস্তাব করেছে। তবে আগামী শুক্রবার যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা থাকায় বিপিসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রিমিয়ামের হার আরও কমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরেছে। মার্চ-এপ্রিল সময়ে যুদ্ধজনিত পরিস্থিতিতে ৩০ হাজার টন পরিশোধিত তেল কিনতে সরকারকে প্রায় ৫ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছিল। বর্তমানে একই পরিমাণ তেলের মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
সর্বশেষ প্ল্যাটস মূল্যসূত্র অনুযায়ী, বিপিসি বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৬৩ টাকায় আমদানি করছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরোপিত আমদানি শুল্ক রয়েছে ৩৬ টাকা।
১৪ জুন পর্যন্ত দেশে মজুত ছিল ৫১ হাজার ৭৮ টন অকটেন, ২৮ হাজার ৮৩২ টন পেট্রোল, ৫২ হাজার ৯০৪ টন জেট ফুয়েল, ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৭ টন ডিজেল এবং ৯৪ হাজার ৮৫৮ টন ফার্নেস অয়েল। বর্তমান মজুত দিয়ে দেশের চাহিদা ৩২ দিনেরও বেশি সময় পূরণ করা সম্ভব হবে।