স্লুইস গেট অকেজো, বাঁশখালীতে জোয়ারের পানিতে ভাসছে হাজারো পরিবার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নে ভাঙা স্লুইস গেট ও অসাধু চক্রের মাছ ধরার খপ্পরে পড়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে হাজার

2026-06-17T13:45:59+00:00
2026-06-17T13:45:59+00:00
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
স্লুইস গেট অকেজো, বাঁশখালীতে জোয়ারের পানিতে ভাসছে হাজারো পরিবার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নে ভাঙা স্লুইস গেট ও অসাধু চক্রের মাছ ধরার খপ্পরে পড়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষের। উপজেলার পশ্চিম পুঁইছড়ি টেকপাড়া এলাকার ছেমটখালী খালের ওয়াফদার স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে থাকায় জোয়ারের পানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হয়ে এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইস গেটের কপাট বা দরজা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসন তা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এই সুযোগে এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন। আলী আকবর নামে এক স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি খালের মুখে মাছ ধরার জাল পেতে জোয়ারের পানি অবাধে লোকালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে জোয়ারের লোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আমনের বীজতলা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে মো. মিনহাজ উদ্দিন রিয়াজ, মো. ফরিদ, মো. কাদের ও জাফর জানান, স্লুইস গেটের ত্রুটির কারণে শুধু টেকপাড়া নয়, পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও এখন পানির নিচে। যাতায়াতের সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাদের দাবি, পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার অন্তত চার হাজারেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এম এ কাশেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, শুধু ছেমটখালী খালই নয়, একই ইউনিয়নের আরবশাহ ঘোনা ফুটখালী খালের স্লুইস গেটটিও দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। এর ফলে পুরো ইউনিয়নের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকার কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে ভরা বর্ষা মৌসুম, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই অঞ্চলের কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে।

এদিকে সরকারি দপ্তরের উদাসীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁশখালী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, তিনি দ্রুতই বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। তিনি বলেন, "স্লুইস গেটটি যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হয়ে থাকে, তবে সেটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের তালিকায় রাখা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

বর্ষার মূল মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এই ভাঙা স্লুইস গেট দুটি দ্রুত সংস্কার এবং খালের মুখে অবৈধ জাল উচ্ছেদ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তা না হলে আসন্ন বর্ষায় পুরো এলাকা অবর্ণনীয় ও দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: