‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।
পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ড এর মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবেন। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আপনার আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন তখন এই পেনশনের টাকাটি আপনাদেরকে দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার নমিনিকে গস্তিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। আপনারা যারা মাসিক চাঁদা জমা দিবেন তাদের যদি আয়ের কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে তবে চাঁদা ও কমবেশি করা যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা অন্তত চার কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চাই। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আপনাদের শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি আপনাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাইবো প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসুক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।
মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।