লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সাফল্য নিঃসন্দেহে অসাধারণ। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনটি বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তিনটিতেই শিরোপা জিতেছেন তিনি। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার মাঝখানে এসেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক জয়। অভিজ্ঞতাহীন একজন কোচের জন্য এমন সাফল্য ফুটবল ইতিহাসেই বিরল। তবে এবার আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বকাপের শিরোপা টানা দুইবার জয়ের কীর্তি এখন পর্যন্ত কেবল ইতালি ও পেলের নেতৃত্বাধীন ব্রাজিলেরই রয়েছে।
আধুনিক ফুটবলে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তার প্রমাণ গত কয়েক দশকের ইতিহাস। অনেক ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নই পরবর্তী আসরে গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। যদিও ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট এবং তুলনামূলক সহজ ড্রয়ের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা কম, তবুও টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হতে হলে স্কালোনিকে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখতে হবে।
বর্তমান আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা যায়, কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যকেই ধরে রেখেছেন স্কালোনি। ২৬ সদস্যের দলে ১৭ জনই সেই বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের অংশ। শুধুমাত্র ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় আনহেল দি মারিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় তাকে এবার দেখা যাবে না।
এই ধারাবাহিকতা এবং খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া দলের অন্যতম শক্তি হলেও সময়ের সঙ্গে সেটিই কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। কারণ দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ফুটবলারের বয়স এখন ত্রিশের ঘরে বা তার বেশি। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল এবং রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ মোট নয়জন খেলোয়াড়ের বয়স ৩০ বছরের বেশি। অন্যদিকে, ফ্রান্সিসকো মাস্তানতুয়ানো কিংবা আলেহান্দ্রো গারনাচোর মতো উদীয়মান প্রতিভাদের দলে না রাখায় ২৫ বছরের নিচে খেলোয়াড় রয়েছেন মাত্র তিনজন।
বয়সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তিও এখন বড় একটি বিষয়। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা খেলার চাপ ফুটে উঠছে অনেকের পারফরম্যান্সে। বিশেষ করে এনজো ফের্নান্দেস ও হুলিয়ান আলভারেস গত দুই বছরে ১২০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন, যা তাদের ফিটনেসের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
একইভাবে লিভারপুল মিডফিল্ডার আলেক্সিস মাক আলিস্তারের সাম্প্রতিক ফর্মও প্রশ্ন তুলেছে। অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার কারণে তার পারফরম্যান্সে আগের ধার দেখা যাচ্ছে না। আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি একাদশে থাকতে পারেন, তবে স্কালোনিকে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় ও সফল করে তুলতে হলে স্কালোনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা। পরিচিত ও পরীক্ষিত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বেঞ্চে থাকা তরুণ প্রতিভাদেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুযোগ দিতে হবে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেই হয়তো এবার বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।
গোল ডটকমের বিশ্লেষণ