চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলার বিচার প্রক্রিয়া সাত কার্যদিবসে শেষ করেছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুন) অষ্টম কার্যদিবসে মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে আদালত জানিয়েছেন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি হয়েছে। এরপর আদালত রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।
যুক্তিতর্ক শুনানিতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন বলে জানালেন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ। তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটা রাষ্ট্রপক্ষে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি বলে মনে করি। আসামি একজন কোমলমতি শিশুর সঙ্গে যে ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করেছে, এর যথোপযুক্ত শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড অবশ্যই কাম্য। তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। এটি চট্টগ্রাম আদালতের ইতিহাসে একটি রেকর্ড হয়ে থাকবে। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানালেন তিনি।
এর আগে গত ২১ মে দুপুরে নগরীর বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করে এলাকাবাসী। ৩০ বছর বয়সী মনির ওই এলাকার ভাই ভাই ডেকোরেশনের কর্মচারী ছিলেন। তাকে আটকের ঘটনা নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল বাকলিয়া। বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবি তুলেছিল।২২ মে শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। ওইদিন আসামি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মাত্র ১৩ দিনে এবং সরকারি কার্যদিবস হিসেবে পাঁচদিনে তদন্ত শেষ করে ৪ জুন অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। সাক্ষী করা হয় ২২ জনকে।
৮ জুন অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে সাক্ষ্য নেয়।