হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। তবে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় তীব্র বেড সংকট দেখা দিয়েছে, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। যার কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে বা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে আক্রান্ত শিশুদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের বিদ্যমান শয্যা অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। বেডের অভাবে ভর্তি থাকা শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধেরও সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েকটি জরুরি ওষুধের ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৭৫ জন হাম আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে আরও ১০ জন শিশুকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের জন্য পর্যাপ্ত বেড না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.কাজী সামছুল আরেফীন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বেডের সংকট রয়েছে। এছাড়া অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে থাকায় কিছু ওষুধের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন অর্থবছরে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে মানছেন না। ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা শিশুদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।