শক্তিমত্তা ও অভিজ্ঞতায় দুই দলের পার্থক্য ছিল আকাশ-পাতাল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও ব্যবধান ৬১ ধাপ। তবে সেই কেপ ভার্দেই বিশ্বকাপের মঞ্চে রুখে দিল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে সোমবার (১৫ জুন) ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে লা রোহাকে ০–০ গোলে আটকে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে আফ্রিকার দলটি। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলশূন্য ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরো ম্যাচে ৭৪ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল স্পেনের। তারা ২৩টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বিপরীতে কেপ ভার্দে ৬টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র একটি। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। তবে ৪-৪-২ ছকে রক্ষণ সাজিয়ে কেপ ভার্দে মাঝমাঠ পর্যন্ত নেমে এসে কার্যত ছয়জনের দেয়াল তৈরি করে। লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসকে শুরুর একাদশে না রাখার প্রভাবও স্পষ্ট ছিল স্প্যানিশ আক্রমণে।
শুরুর দিকেই কয়েকটি পাল্টা আক্রমণে স্পেনকে সতর্ক করে দেয় কেপ ভার্দে। সপ্তম মিনিটে স্টিভেন মোরেইরার পাস থেকে জোভানে কাবরাল সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ১২ মিনিটে মারকোস ইয়োরেন্তের ক্রস থেকে ওইয়ারসাবালের শটের আগে পিকো লোপেস দারুণ হেডে ক্লিয়ার করেন।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি থেকে আক্রমণ বাড়ায় স্পেন। ১৬ মিনিটে পেদ্রির শট সহজেই রুখে দেন ভোজিনহা। ২৯ মিনিটে গাভির শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে ডেইলন লিভরামেন্তোর দূরপাল্লার শটও রক্ষা পায়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। পেদ্রির ভলি, ফেরান তোরেসের ক্রসবারে লেগে ফেরা শট, ওইয়ারসাবালের হেড এবং লাপোর্তের হেড—সবই অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ভোজিনহা।
বিরতির পরও একই চিত্র। বলের দখল স্পেনের, আর ধৈর্য ধরে রক্ষণ সামলায় কেপ ভার্দে। ৫৬ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের হেডও সহজেই তালুবন্দি করেন গোলরক্ষক।
ম্যাচের শেষ দিকে ইয়ামাল ও দানি ওলমো নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি স্পেন। ৮৮ মিনিটে ওইয়ারসাবালের নিশ্চিত সুযোগও ব্লক করেন ডিফেন্ডার পিকো লোপেস। যোগ করা সময়েও শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয় লা রোহার।
পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেও কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণ, ডিফেন্ডারদের আত্মত্যাগী পারফরম্যান্স এবং ভোজিনহার অনবদ্য গোলরক্ষণের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে স্পেন। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে বিশ্বকাপে বড় চমক উপহার দেয় কেপ ভার্দে।