আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। একই সঙ্গে সারাদেশে মিডডে মিল চালু এবং পাঠদানকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলামের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, সেশনজট কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন পাঠ্যবই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আতিকুর রহমানসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।
স্কুল, উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তবে একাধিক বিষয়ে অংশ নেওয়ায় একই শিক্ষার্থীর নাম একাধিকবার গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত পর্বে ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেবে।