সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায়, জেলেদের মাঝে ২৪ হাজার টন চাল বিতরণ

ভোরের ডাক রিপোর্ট

জাতীয়

বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে ৫৮ দিনের মাছ ধরার

2026-06-15T17:55:12+00:00
2026-06-15T17:55:12+00:00
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায়, জেলেদের মাঝে ২৪ হাজার টন চাল বিতরণ
ভোরের ডাক রিপোর্ট
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এ সময়ে দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য নৌযানের মাধ্যমে যে কোনো প্রজাতির মাছ আহরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল।

গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকা এ নিষেধাজ্ঞা চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপকূলীয় উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাস্তবায়িত হয়।

নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা এবং ২৬০টি সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রে যাত্রার অনুমতি বন্ধ রাখা হয় এবং বরফকলগুলোতে নিয়ন্ত্রিত বরফ উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়।

নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি মৎস্যজীবী পরিবারের মধ্যে মাসিক ৪০ কেজি হারে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সমন্বয়ে এ সময় ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ২ হাজার ৪৩৮টি অবতরণ কেন্দ্র, ৯ হাজার ১৫১টি মাছঘাট, ১৭ হাজার ৫৮৫টি আড়ৎ এবং ১৬ হাজার ৪৯৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।

অভিযানে ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ দশমিক ৯৪৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া জব্দকৃত সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্জিত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে জেলে ও যান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় তুলনামূলক বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক হবে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: