খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা-এর তিনটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত শতাধিক ভূমিহীন পরিবার চরম ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদী খনন প্রকল্পের কাজ চলাকালে মাটি ফেলে ঘরের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়া, ঘর ধসের আশঙ্কা এবং মৌলিক সুবিধা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা কার্যত মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চুকনগর, কাঠালতলা ও খর্নিয়া এলাকার এই আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২১ ও ২০২২ সালে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের পুনর্বাসন করা হয়। দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘর ও জমির দলিল পেয়ে তখন এই পরিবারগুলো নতুন জীবনের আশা পেয়েছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বুড়িভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই তাদের জীবন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। খননের সময় ঘরের পাশে ও ওপর মাটি ফেলা, ড্রেজিংয়ের কারণে মাটি ধসে পড়া এবং ঘরের পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
কাঠালতলা এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম (৬৫) বলেন, নদীর ভাঙনে সব হারাইছিলাম। সরকার ঘর দিছিল। এখন আবার ঘরের ওপর কাদা মাটি ফেলছে। রাতে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি মাটি চাপা পড়ে মরে যাবো।
খর্নিয়া এলাকার দিনমজুর আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, নদী খননের সময় ঘরের একদম কাছ পর্যন্ত গর্ত করা হয়েছে। বৃষ্টিতে ঘর নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া টয়লেট ও পানির টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে পড়ায় পরিবারগুলো চরম সংকটে আছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী থেকে তোলা পলিমাটির প্রচন্ড চাপে তার ঘরের পেছনের দেয়াল ও জানালা ভেঙে ভেতরে কাদা ঢুকে গেছে। নদী খননের মাটি যেভাবে ঘরের গা ঘেঁষে স্তূপ করে রাখা হয়েছে, তাতে যে-কোনো মুহূর্তে পুরো ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রচন্ড গরমে একদিকে যেমন ঘরে থাকার উপায় নেই। কিছু ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে, কোথাও মাটির স্তূপ ঘরের দেয়াল ঘেঁষে রাখা হয়েছে। রান্নার জায়গা না থাকায় এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে শিশুসহ পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, বিষয়টি সত্য যে নদী খননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এসে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শতাধিক পরিবার যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।