ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু নিশামনিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের কংস নদী থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে, বিকেলে বাড়ির পাশ থেকেই হঠাৎ সে নিখোঁজ হয়।
নিহত নিশামনি উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।
আটককৃতরা হলেন একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন (১৪) এবং রমজানের ছেলে মারুফ হোসেন (২০)।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশ থেকেই হঠাৎ নিখোঁজ হয় নিশামনি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের কংস নদীতে একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে নিশামনির পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং লাশটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে গভীর রাতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, লাশ উদ্ধারের পর রাতেই দাফনের উদ্দেশে গোসলের সময় শিশুটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ণ দেখা যায়। বিশেষ করে তার গলা ও বুকে কামড়ের গভীর দাগ এবং শরীর থেকে আশঙ্কাজনকভাবে রক্তক্ষরণের আলামত দেখা যায়। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ জাগে, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটির শরীরে কিছু স্পর্শকাতর আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি ধষর্ণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হালুঘাট (সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। সন্দেহভাজন দু’জনকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।