আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

বাংলা ঋতুচক্রে বর্ষার দুয়ার খুলে দেওয়া আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ। প্রকৃতির রূপ বদলের এই সময়টিতে আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, টিপটিপ কিংবা

2026-06-15T14:09:31+00:00
2026-06-15T14:09:31+00:00
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ২:০৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলা ঋতুচক্রে বর্ষার দুয়ার খুলে দেওয়া আষাঢ়ের প্রথম দিন আজ। প্রকৃতির রূপ বদলের এই সময়টিতে আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, টিপটিপ কিংবা ঝুম বৃষ্টির ছন্দ আর সবুজের সতেজতায় নতুন প্রাণ ফিরে পায় জনজীবন। গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হওয়া আষাঢ় শুধু একটি মাসের সূচনাই নয়, বাঙালির সংস্কৃতি, কৃষি ও জীবনযাত্রার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ সময়ের নাম।

সোমবার (১৫ জুন), ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পয়লা আষাঢ়, যা রূপসী বাংলার চিরন্তন ঋতু বর্ষার প্রথম দিন। তপ্ত রোদ আর গরমের দাপট কাটিয়ে প্রকৃতিতে সজীবতা ছড়াতে ও স্বপ্ন জাগাতে আজ আগমন ঘটেছে বর্ষা ঋতুর। বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় এই ঋতু ও আষাঢ়ের প্রথম দিনটিকে বরণ করতে রাজধানী ঢাকায় আজ নানা বর্ণিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

নীল গগনে কালো মেঘের চোখ রাঙানিতে আজ থেকে বৃষ্টির রাজত্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কদিন আগে থেকেই অঝোর ধারায় আকাশ কাঁদিয়ে বর্ষারানি তার আগমনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ষড়ঋতুর এই দেশে।

গতকাল রবিবার জ্যৈষ্ঠের শেষ দিনে সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে এদিন আকাশ মেঘলা থাকলেও রাজধানীতে কোনো বৃষ্টি হয়নি; যদিও আগের দুদিনে শনিবার ৩৫ ও শুক্রবার ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, আজ সোমবারও রাজধানীসহ সারা দেশে কম-বেশি বৃষ্টি হবে। তবে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে অধিক বৃষ্টি হতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়বে। তিনি আরো বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলেও তা অনেকটাই উষ্ণ বৃষ্টি, বেশি সময় ধরে না হলে তাপমাত্রা সহজে কমে না; বরং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।

বর্ষা নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন অগণিত গান ও কবিতা। আবেগাপ্লুত হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন— বর্ষা ঋতু এলো এলো বিজয়ীর সাজে, বাজে গুরু গুরু আনন্দ-ডমরু অম্বর মাঝে।

এছাড়া ‘আয়রে মেঘ আয়রে’সহ অগণিত গান ও কবিতায় বর্ষার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন কবি-সাহিত্যিকরা। শুধু কি তা-ই, বর্ষার আগমনে গাছে শোভাবর্ধন করে কদম ফুল। মেঘের গুড়ুম গুড়ুম গর্জনে ময়ূর নাচে পেখম তুলে।

বর্ষা আমাদের জন্য অপরিহার্য এক ঋতু। বৃষ্টি না হলে শস্যাদি জন্মাবে না, বেড়ে উঠবে না প্রাণ। বৃষ্টির অভাবে মাটি যখন অনুর্বর হয়ে যায়, তখন বর্ষা এসে তা উর্বর করে। আমাদের নদী-মাঠ-ঘাটের দেশ বর্ষায় ভরে ওঠে সবুজে-শ্যামলে। আবেগে ভরে বর্ষা সবার মনকে স্নিগ্ধ করে তোলে। পুরাতন জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে জেগে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্যে।

আষাঢ়ে প্রকৃতি রূপ-রঙে হয়ে ওঠে ঢলঢলে। তাপপ্রবাহে চৌচির মাঠ-ঘাট, খাল-বিল আর বনবীথিকায় জেগে ওঠে নবীন প্রাণের ছন্দ। সময়-অসময়ে ঝমাঝম বৃষ্টি, কর্দমাক্ত পথঘাট, চারধারে অথৈ পানিতে আবহমান বাংলা রূপ নেয় অপরূপ রূপবতী সলিল দুহিতায়। ফুলে ফুলে শোভিত হয় প্রকৃতি। তাল-তমাল, শাল-পিয়াল আর মরাল কপোতের বনবীথিকায় চোখে পড়ে বকুল, কদম, জারুল, পারুল, কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়াসহ অসংখ্য ফুল।

গ্রীষ্মের রুদ্র প্রকৃতির গ্লানি আর জরাকে ধুয়ে-মুছে প্রশান্তি স্নিগ্ধতা ও সবুজে ভরে তোলে আষাঢ়। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে তাই বর্ষা নিয়ে আসে অভিনব ব্যঞ্জনা। আর বাঙালি মননে সবচেয়ে বেশি রোমান্টিকতার সুর বেজেছে এ বর্ষা ঋতুতেই। গানে-কবিতায়-সাহিত্যজুড়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে নানাভাবে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: