আসন্ন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে বগুড়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা গ্রামগঞ্জে আগাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আগাম প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় আওয়ামী লীগের নেতাদেরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের একটি বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে তৃণমূলে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির অন্তত অর্ধডজন নেতা সক্রিয় রয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান খান শামীম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি একে আজাদ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আহসান বিপ্লব রহিম এবং ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা জামাল হোসেন।
এর মধ্যে মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি একাধিক মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এই নেতা হামলায় চোখ হারানোর ঘটনাসহ একাধিক মামলায় কারাবন্দি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পৌর মেয়র পদে আলোচনার শীর্ষে আছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম সুমন। সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয়তা রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
এছাড়া মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন, বেলায়েত হোসেন আদর, মো. আলেকজান্ডার, সাবেক মেয়র সুশান্ত কুমার শান্ত এবং সাবেক মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, মাঠের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিচ্ছে। এতে তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় শক্ত অবস্থান নিতে জামায়াতে ইসলামী আগাম প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, নুরুল ইসলাম মন্ডল (উপজেলা চেয়ারম্যান পদ), প্রভাষক হোসাইন মোহাম্মদ মানিক (১নং বুড়ইল ইউপি), এবং আনোয়ারুল হক (৫নং ভাটগ্রাম ইউপি)।
দলীয় সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তারা আগেভাগেই প্রচারণা শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচনে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে কিছু আওয়ামী লীগপন্থী ভোটার ও সমর্থকের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইসি সূত্র জানায়, জুলাইয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হতে পারে। আগস্টে তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভোটগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও কোন নির্বাচন আগে হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।