যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে প্রবাসী ফুটবল ভক্তদের ওপর। আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানি-আমেরিকান সমর্থকরা যেমন ফুটবল উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে চাইছেন, তেমনি রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর দ্বিধা ও মানসিক চাপ।
১৬ জুন লস এঞ্জেলেস-এ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান জাতীয় দল। ওই ম্যাচ ঘিরে প্রবাসী ইরানি সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও অনেকেই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইরানি-আমেরিকান ব্যবসায়ী এহসান শাফির মতো অনেকে বহুদিন পর নিজ দেশের দলকে সরাসরি মাঠে বসে সমর্থন জানানোর সুযোগকে বিরল অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
তবে একই সঙ্গে অনেক সমর্থকের মনে দ্বিধা কাজ করছে—নিজ দেশের দলকে সমর্থন জানানো কি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো পক্ষকে সমর্থন করার সমান হয়ে দাঁড়ায় কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানি-আমেরিকান ফুটবল ভক্তরা পরিচয়ের গর্ব এবং বর্তমান রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে বিভক্ত অবস্থায় আছেন। বিশেষ করে বৃহৎ ইরানি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা, যা অনেকে ‘তেহরানজেলেস’ নামে চেনেন, সেখানে এই বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরান দল আগামী ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেস-এ বেলজিয়াম-এর বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটল-১ মিসরের মুখোমুখি হবে। টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেক ভক্ত নিরাপত্তা শঙ্কা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।
অন্যদিকে কিছু কট্টর সমর্থক পুরো টুর্নামেন্টই বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি রয়েছে।
সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানি-আমেরিকান সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আনন্দ, উদ্বেগ এবং পরিচয়ের টানাপোড়েন—যা খেলার মাঠের বাইরেও এক জটিল বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।