বিশ্বকাপ শুরু বিতর্ক রোমাঞ্চের আবহে

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

অপেক্ষার পালা শেষ। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ শুরু। সময়ের সাথে সাথে বিশ্ব জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনের নানা প্রশ্ন আর কৌতূহলের উত্তরও

2026-06-12T12:39:50+00:00
2026-06-12T12:54:04+00:00
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
খেলা
বিশ্বকাপ শুরু বিতর্ক রোমাঞ্চের আবহে
ক্রীড়া ডেস্ক
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম  আপডেট: ১২.০৬.২০২৬ ১২:৫৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
অপেক্ষার পালা শেষ। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ শুরু। সময়ের সাথে সাথে বিশ্ব জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনের নানা প্রশ্ন আর কৌতূহলের উত্তরও মিলতে শুরু করবে। এক মাসের বেশি সময় ধরে ফুটবল উন্মাদনায় বুঁদ হয়ে থাকবে ভক্ত-সমর্থকরা। 

প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। তবে এটিই একমাত্র নতুনত্ব নয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হলো তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। 

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে মেক্সিকো থেকে শুরু হয় বিশ্বকাপের যাত্রা। এরপর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও আয়োজন করে পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রতিটি অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্বাগতিক দেশের প্রথম ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। 

সংগীত, সংস্কৃতি এবং ফুটবলের সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি দেশের নিজস্ব পরিচয় যেমন তুলে ধরা হয়, তেমনি উদযাপন করা হয় বিশ্বকাপের বৈশ্বিক ঐক্যও। প্রথম অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। 

এরপর কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী আয়োজন হয় লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অনেক শিল্পী এই তিন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। 

মেক্সিকোর অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন কলম্বিয়ান পপ সেনসেশন শাকিরা। কানাডার অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন বলিউড ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচিত শিল্পী নোরা ফাতেহি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে টরন্টোর অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। 

ফিফা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপকে কেবল ফুটবলের টুর্নামেন্ট হিসেবে নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও গড়ে তুলতে কাজ করছে। সেই লক্ষ্যেই ২০২১ সালে চালু করা হয় ফিফা সাউন্ড উদ্যোগ। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটবল ও সংগীত এই দুই বৈশ্বিক আবেগকে একসঙ্গে যুক্ত করাই এর উদ্দেশ্য। 

বিশ্বকাপ শুরুর আগের সন্ধ্যাতেই মেক্সিকো সিটি, টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ কনসার্ট। সেখানে অংশ নেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনপ্রিয় তারকারা। তালিকায় ছিলেন কেটি পেরি, আলানিস মরিসেট, ফিউচার, আনিত্তা, লিসা, রেমা এবং ভেজেড্রিম। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংগীত নিয়েও ছিলো বিশেষ আয়োজন। 

২০১০ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা শাকিরা এবারও ফিফার অফিসিয়াল অ্যান্থেমে কণ্ঠ দেন। নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় শিল্পী বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি গেয়েছেন নতুন গান ‘দাই দাই’। ল্যাটিন পপ ও আফ্রোবিটসের মিশেলে তৈরি এই গানটি বিশ্বকাপের ১৮ ট্র্যাকের অফিসিয়াল অ্যালবামের অংশ।

মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরা ও বার্না বয়ের পাশাপাশি থাকেন জে বালভিন, মানা, বেলিন্দা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ এবং আরও অনেক শিল্পী। ফিফা জানিয়েছে, মেক্সিকোর আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকনৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাও অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো। কানাডার অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন মাইকেল বুবলে, অ্যালেসিয়া কারা, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয় দেবসহ আরও অনেকে। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানে কেটি পেরির পাশাপাশি মঞ্চ মাতান ফিউচার, আনিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলা।

এদিকে লিওনেল মেসি কি আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালে কাতারে জেতা শিরোপা ধরে রাখতে পথ দেখাতে পারবেন? তার মতোই রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের হয়ে অধরা সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে পারবেন? টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লক্ষ্য স্থির করা তারকাখচিত অন্য দলগুলোরই বা কী হবে? 

স্পেন ও বিস্ময়-বালক লামিনে ইয়ামাল কি তাদের ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুটের সঙ্গে বিশ্বকাপও যোগ করতে পারবে? চার বছর আগের ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপের হ্যাটট্রিকের পরও রানার্সআপ হওয়া ফ্রান্স আবার শিরোপার মঞ্চে পা রাখবে? কিংবা ব্রাজিলের বহু কাক্সিক্ষত হেক্সা মিশন সফল হবে? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর এবারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়া অবধি জানার অপেক্ষায় থাকবে গোটা ফুটবল দুনিয়া।

তবে এসব তো শুধু মুদ্রার একটা পিঠ। অন্য পিঠে রয়েছে বিশ্বকাপ ঘিরে অনেক বিতর্ক। মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে বাইরের নানা বিতর্ক দানবীয় আকৃতির এই বিশ্বকাপটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত আসরগুলোর একটিতেও পরিণত করেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভিসা বিধিনিষেধ নিয়ে ক্ষোভ ও টিকেটের আকাশচুম্বী দাম বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। এবারই প্রথম যৌথভাবে তিনটি দেশে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। 

প্রথমবার অংশ নেবে ৪৮টি দল, চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ১৬টি বেশি। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলা হবে ১৬টি শহরে- যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি, মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি। ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। রেকর্ড ৩৯ দিন ধরে চলবে টুর্নামেন্ট। 

২০২২ সালে কাতারে হয়েছিল ২৯ দিন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ৩২ দিন। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার গত রাত ১টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয় মেক্সিকো। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষে চূড়ান্ত হবে বিজয়ী।

বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে চারটি দেশের- কেপভার্দ, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তান। সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে ৩৭ মাইল দূরে অবস্থিত কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা দেড় লাখের কিছু বেশি।

কুরাসাও ও আইসল্যান্ডের পর, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দ। আফ্রিকার শক্তিশালী দল ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করে ব্লু শার্কস নামে পরিচিত দলটি। দেশটির জনসংখ্যা পাঁচ লাখ ২৫ হাজারের কম। এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন শক্ত ফেভারিটদের একটি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের পথচলা ছিল প্রায় নিখুঁত। প্রথম পাঁচটি ম্যাচই জিতে, শেষটি ড্র করে, অপরাজিত থেকে বাছাই শেষ করে ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ীরা। 

পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, মিকেল মেরিনো, মার্তিন সুবিমেন্দি, ২০২৪ সালের ব্যালন ডিঅর জয়ী রদ্রি, বিশ্বের সেরা তরুণ প্রতিভাদের একজন লামিনে ইয়ামালের মতো খেলোয়াড় আছেন স্পেন দলে। শিরোপা জয়ের জন্য এগিয়ে রাখা হচ্ছে ফ্রান্সকেও। ব্যালন ডিঅর জয়ী উসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বার্কোলা, মাইকেল ওলিসে, কিলিয়ান এমবাপের মতো ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ আছে দিদিয়ে দেশমের দলে। 

২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি এবারের বাছাইপর্বে ছিল অপরাজিত। গত দুটি ইউরোর রানার্সআপ ইংল্যান্ডও ফেভারিটদের একটি। টমাস টুখেলের দল বাছাইপর্বে কোনো গোল হজম না করে, আট ম্যাচের সবকটি জিতে পারফেক্ট রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনের মতো বড় তারকা রয়েছে তাদের দলে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অবিশ্বাস্য এক মৌসুম কাটিয়ে এসেছেন কেইন। 

বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বের শীর্ষে ছিল, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের চেয়ে ৯ পয়েন্ট বেশি নিয়ে। মাত্র চার বছরে দুটি কোপা আমেরিকা, একটি বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমা জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। 

লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাকে নিয়ে এবারও শক্তিশালী লিওনেল স্কালোনির দল। বাছাইপর্বে হতাশাজনক পারফরম্যান্স (১৮ ম্যাচের ছয়টিতে হেরে পঞ্চম স্থান অর্জন) সত্ত্বেও ব্রাজিলকে কি ফেভারিটদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে? 

রেকর্ড পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার সবশেষটি তারা জিতেছে ২৪ বছর আগে, ২০০২ সালে। কার্লো আনচেলত্তির কোচিংয়ে দীর্ঘ সেই খরা কাটিয়ে উঠতেও মরিয়া সেলেসাওরা। প্রতি বিশ্বকাপেই চমক দেখায় কিছু দল। ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে, গত আসরের সেমি-ফাইনালিস্ট মরক্কোরও অনেক দূর যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন যত নিয়ম : ২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কিছু নিয়ম পরিবর্তন করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো খেলার গতি কমিয়ে সময় নষ্ট করার কৌশল নির্মূল করা।

হাইড্রেশন ব্রেক (৩ মিনিট) : ম্যাচের প্রতি অর্ধের মাঝে তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক পানি পানের একটি বিরতি থাকবে।

থ্রো-ইন কাউন্টডাউন (৫ সেকেন্ড) : যদি কোনো খেলোয়াড় থ্রো-ইনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে খেলা পুনরায় শুরু করতে দেরি করেন, তাহলে থ্রো প্রতিপক্ষকে দেওয়া হবে।

গোল-কিক কাউন্টডাউন (৫ সেকেন্ড) : গোলরক্ষকের ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করার চেষ্টার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে এবং তেমনটা হলে শাস্তিস্বরূপ প্রতিপক্ষকে কর্নার দেওয়া হবে।

মাঠের বাইরে চিকিৎসা (১ মিনিট) : ফিজিওর চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে অবশ্যই এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষক বা যেসব খেলোয়াড় চোট পাওয়ায় প্রতিপক্ষ লাল কিংবা হলুদ কার্ড পাবে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

মুখ ঢেকে রাখা : প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি পরিস্থিতিতে কথা বলার সময় কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে রাখলে তাকে লাল কার্ড দেখানো হতে পারে।

কর্নার পর্যালোচনা : বিশ্বকাপে ভিএআরের (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। কর্নার সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে পারবে ভিএআর। তবে এটি অবশ্যই দ্রুত এবং খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার আগে করতে হবে। ভুলভাবে দেওয়া গোল-কিকের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পর্যালোচনা : দুটি হলুদ কার্ডের জন্য মাঠ থেকে বহিষ্কৃত খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি পর্যালোচনা করা যাবে।

১০ সেকেন্ড বদলি : কোনো খেলোয়াড়কে বদলি করার সময় তিনি তার নিকটতম স্থান থেকে মাঠ ছাড়ার জন্য ১০ সেকেন্ড সময় পাবেন। 

এতে ব্যর্থ হলে খেলার পরবর্তী বিরতির আগ পর্যন্ত বদলি খেলোয়াড় অন্তত এক মিনিটের জন্য মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না, অর্থাৎ তার দলকে ১০ জন নিয়েই খেলা চালিয়ে যেতে হবে।

বিতর্কিত ও সমালোচিত অধ্যায়

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা : বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম অংশগ্রহণকারী কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত আয়োজক দেশ! 

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে গিয়ে খেলতে আপত্তি জানায় ইরান। তারপর থেকে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয় নানারকম বিভ্রান্তি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেইস ক্যাম্প মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়াসহ অনেক টানাপোড়েনের মধ্যেই টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে ইরান।

কঠোর ভিসা বিধিনিষেধে : বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পান ইরানের খেলোয়াড়রা। তবে গণমাধ্যমের খবর, দেশটির কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এখনও ভিসা পাননি। ভিসা জটিলতায় পড়েছেন দর্শকরাও। 

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ভ্রমণ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী এক-চতুর্থাংশের বেশি দেশের সমর্থকরা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, কঠোর বিধিনিষেধ অথবা উচ্চ হারে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হচ্ছেন। 

গত বছর ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেই দেশগুলোর একটি সোমালিয়ার রেফারি ওমার আব্দুলকাদির আর্তানকে বিশ্বকাপ শুরুর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তুমুল।

টিকেটের চড়া দাম : এই বিশ্বকাপে টিকেটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই। 

গত ডিসেম্বরে যখন গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকেট ১৪০ ডলার থেকে শুরু করে ফাইনালের জন্য ৮ হাজার ৬৮০ ডলার পর্যন্ত বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়, তখন এটিকে সমর্থকদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করে সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই)। গত মার্চে টিকেটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় কমিশনে একটি মামলাও করে সংগঠনটি।

পরিবেশ দূষণ : পরিবেশগত প্রভাবের কারণেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে এবারের বিশ্বকাপ। বিভিন্ন সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে যে, আয়োজক শহরগুলোর মধ্যকার দূরত্ব ও অনেক বেশি বিমান ভ্রমণের কারণে এই টুর্নামেন্টে ৯০ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হবে। এই বিশ্বকাপে জলবায়ুগত ক্ষতির পরিমাণ গত বিশ্বকাপের দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: