বিশ্বকাপের লড়াই শুরু হয়ে গেছে, আর ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই শক্তিধর দলকে ঘিরে প্রত্যাশা সবসময়ই অন্যরকম, আর সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছেন কোটি সমর্থক।
টুর্নামেন্টে ব্রাজিল তাদের যাত্রা শুরু করবে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে। দুই দলই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান সূচি ও নকআউট কাঠামো অনুযায়ী, ব্রাজিল রয়েছে সি গ্রুপে এবং আর্জেন্টিনা জে গ্রুপে। দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে অতিক্রম করতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে উভয় দল যদি রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে, সেক্ষেত্রেও শেষ চারে মুখোমুখি হতে পারে তারা।
অন্যদিকে একটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং অন্যটি রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে যায়, তাহলে সম্ভাব্য ফাইনালে দেখা মিলতে পারে এই দুই পরাশক্তির। তবে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠলে সম্ভাব্য পথচিত্র ভিন্ন হতে পারে, ফলে তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর্যায় নির্ধারণ করা কঠিন।
গ্রুপ পর্বের দিকে তাকালে আর্জেন্টিনাকে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে ব্রাজিলকে খেলতে হবে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা মোট চারবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে, যেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনার তৈরি করা সুযোগ থেকে ক্লাউদিও কানিজিয়ার গোলে আর্জেন্টিনা জয় পেয়ে ব্রাজিলকে বিদায় করেছিল।
এর আগে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ২-১ গোলে জয় পায়। ১৯৭৮ সালের আসরে দুই দলের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। আর ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে ব্রাজিলের দুটি জয়, আর্জেন্টিনার একটি জয় এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আবারও যদি বিশ্বকাপ মঞ্চে তাদের দেখা হয়, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হবে।