ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: গভর্নর

বাণিজ্য

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ নেই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

2026-06-12T18:25:49+00:00
2026-06-12T18:25:49+00:00
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বাণিজ্য
ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: গভর্নর
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইসলামী ব্যাংকে সরকারের বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ নেই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ করেনি। বরং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গভর্নর। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ইসলামী ব্যাংকে যে পরিচালনা পর্ষদ পাওয়া যায়, সেটি পাঁচ সদস্যের ছিল। পরবর্তীকালে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।’

তিনি বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংককে কোনো ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিইনি, কাউকে চাকরি দিতে বলিনি, কিংবা কোনো পদোন্নতির ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করিনি। তারপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘ঈদের আগের দিন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর ব্যাংকটির কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমিক ব্যাংক এবং পরিচালনা পর্ষদে ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা বজায় রাখা প্রয়োজন ছিল।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নীতিগত ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমানতকারীদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তারা যেকোনও সময় তাদের আমানত তুলতে পারবেন। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছে যায়, যা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর কমানোর পরামর্শ দিলেও এখনও তা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।’ তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

গভর্নর বলেন, ‘আমরা ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছি। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে। কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) আমানতকারীরা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টাকা ফেরত পাননি। আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়াও শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাত একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমানত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় পুরো খাতকে স্থিতিশীল করতে সবার ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক (পিএলসি) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবেরও জবাব দেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যায়, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী নতুন এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার এবং অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস সময় লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। সব ধরনের নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।’

গভর্নর আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম লক্ষ্য ছিল খাতটিকে স্থিতিশীল করা, এরপর পুনঃমূলধনীকরণ (রিক্যাপিটালাইজেশন) কার্যক্রম শুরু করা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।’


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: