দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ (রিং) জাল জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনব্যাপী পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ১৪৭টি অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর আওতায় পরিচালিত অভিযানের প্রথম ধাপে কুলিয়ারচর উপজেলার কালী নদী ও কুনিয়ারবন হাওর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় ২ হাজার ১৭৫ মিটার দীর্ঘ ৮৭টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
একই দিনে কটিয়াদী উপজেলার দিঘীরপাড় করগাঁও ইউনিয়নের করগাঁও হাওরে পরিচালিত অপর এক অভিযানে ৬০টি নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার এবং বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযান শেষে উদ্ধার করা মোট ৩ হাজার ৩৭৫ মিটার দীর্ঘ ক্ষতিকর জাল স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত জেলেসহ স্থানীয়দের চায়না দুয়ারি জালের ক্ষতিকর প্রভাব এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দেশীয় মাছের অবাধ প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নদ-নদী ও হাওরকে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
মৎস্য বিভাগের এ উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।