মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে শিশুদের নিরাপদ খেলাধুলা, মানসিক বিকাশ ও নির্মল বিনোদনের লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছিল টঙ্গীবাড়ি শিশু পার্ক। উদ্বোধনের সময় এটি উপজেলার অন্যতম আলোচিত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে প্রশংসা কুড়ায়। তবে উদ্বোধনের মাত্র সাত মাসের মধ্যেই পার্কটির বেহাল চিত্র স্থানীয়দের হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে পার্কটি ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে অযত্ন-অবহেলার ছাপ স্পষ্ট। শিশুদের জন্য স্থাপন করা কয়েকটি রাইড ভেঙে পড়ে আছে। রাইডের নিচে জমে আছে বৃষ্টির পানি। বেশ কয়েকটি দোলনায় মরিচা ধরেছে। মাঠজুড়ে বেড়ে ওঠা ঘাস ও আগাছা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
যে পার্ক শিশুদের হাসি-আনন্দ ও স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেটির বর্তমান অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, পার্কটিকে সচল ও নিরাপদ রাখতে দ্রুত সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ শিশু পার্কটির উদ্বোধন করেন। পার্কটির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে টঙ্গীবাড়ির শিশুদের জন্য একটি আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠে। উদ্বোধনের পরপরই শিশু ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পার্কটি উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় জনবিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়।
বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার সৌরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পার্কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুদের খেলার রাইড ভেঙে গেছে, দোলনাগুলো নষ্ট হয়ে পড়েছে এবং মাঠজুড়ে বড় বড় ঘাস ও আগাছা জন্মেছে। এতে সাপসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর উপদ্রবের আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
টঙ্গীবাড়ির বাসিন্দা ও কাঁদামাটি থিয়েটারের সভাপতি ফরিদ হাসান চৌধুরী বলেন, শিশু পার্কটি টঙ্গীবাড়ির শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র। শিশুদের জন্য নির্মিত একটি জনসেবামূলক স্থাপনা এভাবে অবহেলার শিকার হওয়া উচিত নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে পার্কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
টঙ্গীবাড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উদ্বোধনের পর এখানে শিশুদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বর্তমানে পার্কটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এখন আর আগের মতো জমজমাট পরিবেশ দেখা যায় না। শিশুদের আনাগোনাও কমে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে আহ্বান থাকবে, দ্রুত সংস্কার করে শিশুদের নিরাপদ রাইডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্কটিকে একটি আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পার্কটির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।