বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানির একমাত্র টিউবওয়েলটি গত ৭ দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
বাধ্য হয়ে অনেকে হাসপাতালের সরবরাহকৃত ট্যাপের পানি ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হয়ে পাশের চায়ের দোকান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, টিউবওয়েলটি দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে বিকল থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেন। সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে পেরে তিনি অবাক হন—যা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। মাত্র ৩ টাকার টিকিটে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন, যাদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের ও অসহায়।
হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানির একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল এই টিউবওয়েলটি। সেটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভুক্তভোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
অনেক রোগী হাসপাতালের সরবরাহকৃত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ট্যাংক ও পাইপলাইনের পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেখানে ময়লা ও শ্যাওলা জমে থাকে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
রোগী ও স্বজনদের আশঙ্কা, চিকিৎসা নিতে এসে বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা নতুন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নার্সদের মাধ্যমে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্ব দেয়নি। ফলে সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল হালিম বলেন, আমি বিষয়টি প্রথম শুনেছি। এর আগে আমাকে কেউ অবগত করেনি।
অন্যদিকে, আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, খোঁজ নিয়ে দ্রুত টিউবওয়েলটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা দ্রুত টিউবওয়েল মেরামতসহ স্থায়ীভাবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।