সরকারে না থেকেও আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রায় ২০০টি অস্থায়ী স্কুলের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সেবার আওতায় আনা হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া বিভাগের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় সভায় মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পুরো সময় জামায়াতে ইসলামী শিক্ষার্থীদের পাশে ছায়ার মতো ছিল। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রেও দলটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে হাজার হাজার মানুষকে পুশইন করার চেষ্টা চললেও এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে সমাজের ভুল-ত্রুটি ও অনিয়ম তুলে ধরেন, যা নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যবেক্ষণ করলে জামায়াতের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে নগর জীবনের সমস্যা ও অসঙ্গতিগুলো গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরা হলে সেগুলোর সমাধানে জামায়াত ঢাকা মহানগর উত্তর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।
ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টি করা বা নেতিবাচক বার্তা দেওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইসলামী ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, পুশইন ইস্যু বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সব রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সময় নষ্ট না করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের গাণিতিক হিসাব নয়; এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। করের হার বৃদ্ধি না করে কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির নামে অতীতে ব্যাপক অপচয় ও লুটপাট হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি।