কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখন অত্যাধুনিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভারত সীমান্তঘেঁষা চরাঞ্চল হওয়ার কারণে পদ্মার চর অপরাধীদের যেন অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পদ্মার চরের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে কাঁকন বাহিনী ও মণ্ডল বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও খড়ের মাঠ দখল নিতে এই দুই বাহিনীর মধ্যে মাঝে মধ্যেই গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ
তে (গত ৯ জন মঙ্গলবার) সকাল ১১ টায় মন্ডল বাহিনী ও কাঁকন বাহিনীর মধ্যে এক বন্দুকযুদ্ধে কাঁকন বাহিনীর সদস্য ও কথিত ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নিহত হন। তিনি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুল শেখের ছেলে।
এছাড়াও গতকয়েক মাসে প্রায় ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার এইসব সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপহরণের শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি অনেকেরই। প্রায় ৮ মাস আগে এসব বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার বালুঘাটের হিসাব রক্ষক তারেবুর রহমান টুকুর এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি।
সেই সাথে বালুমহল দখল নিয়েও রয়েছে তাদের মধ্যে বিরোধ। এরই জের ধরে গত ২৭শে অক্টোবর দুপুরে মণ্ডল বাহিনী ও কাকন বাহিনীর মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার পদ্মার দুর্গম চরে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধে উভয় বাহিনীর তিনজন নিহত হয়। তারা হলেন আমান মণ্ডল (৩৬), নাজমুল মণ্ডল (২৬) ও লিটন আলী ঘোষ (৩০) নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় মুনতাজ মণ্ডল (৩২) ও রাকিব মণ্ডল (১৮) নামে আরও দু’জন।
শুধু এই দুই সন্ত্রাসী বাহিনী নয়, সক্রিয় রয়েছে আরও অন্তত ১০টি সন্ত্রাসী বাহিনী। এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীদের হাতে একে ৪৭ এর মত অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এসব ঘটনার চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। এছাড়াও এইসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ওই বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর-ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, পদ্মারচর মূলত দুই বিভাগের চারটা জেলার মধ্যে অবস্থিত। কয়েক মাস আগেও এই পদ্মার চরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১ হাজার সদস্য নিয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। সে সময় অস্ত্রসহ কয়েকজনকে আটক করা হলেও এসব এলাকা দুর্গম হওয়ার কারণে অভিযান পরিচালনা করা অনেকটাই কষ্টসাধ্য বিষয়। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।