ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার তীব্র আতঙ্ক

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

চট্টগ্রাম নগরীতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সামনে বর্ষা মৌসুম আসায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বন্দরনগরীর বাসিন্দারা।

2026-06-07T12:01:48+00:00
2026-06-07T12:02:14+00:00
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
মশার রাজত্বে চট্টগ্রাম
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার তীব্র আতঙ্ক
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০১ পিএম  আপডেট: ০৭.০৬.২০২৬ ১২:০২ পিএম
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম নগরীতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সামনে বর্ষা মৌসুম আসায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বন্দরনগরীর বাসিন্দারা। বিশেষ করে চকবাজার ও পাঠানটুলীর মতো জনবহুল এলাকাগুলো এখন মশার নিরাপদ প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অথচ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চকবাজার কাঁচাবাজার সংলগ্ন চাক্তাই খালের পানি স্থবির হয়ে থাকায় সেখানে মশার লার্ভা জমার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দিনের বেলাতেই ব্যবসায়ীদের কয়েল জ্বালিয়ে বেচাকেনা করতে হচ্ছে। খালের পাশে ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও বাজারের বর্জ্য ও শত শত ডাবের খোসা যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে, যা এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়াচ্ছে।

পাশেই রসুলবাগ আবাসিক এলাকার বির্জা খালে (চাক্তাই ডাইভারশন) জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বাঁধের কারণে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বদ্ধ পানির কারণে মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে। মাসখানেক আগে এই বাঁধের কারণেই শহরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল।

চিকুনগুনিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি এলাকার মধ্যে চকবাজার ও পাঠানটুলী অন্যতম। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বছরে বড়জোর এক-দুবার দেখা যায়, তাও আবার রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে আনতে হয়। পাঠানটুলীর বাসিন্দারা জানান, নালা পরিষ্কারের পর জনগণের অসচেতনতায় তা আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং জমে থাকা পানিতে মশা অবাধে বংশবিস্তার করছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। তিনি জানান, চট্টগ্রাম শহর থেকে সংগৃহীত মশার লার্ভা ল্যাবরেটরিতে আনার মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই চসিকের উচিত শুধু উড়ন্ত মশা নয়, লার্ভা ধ্বংসের দিকে বেশি নজর দেওয়া।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) চট্টগ্রামে ১৭৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এপ্রিল ও মে মাস থেকে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। উল্লেখ্য, গত বছর (২০২৫ সাল) চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন ২৭ জন।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, মশক নিধনে ইতোমধ্যে খাল-নালা পরিষ্কারের কাজ চলছে এবং বির্জা খালের বাঁধটি দ্রুত অপসারণ করা হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির কীটনাশক 'বিটিআই' ছিটানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তির ভেষজ ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: