তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব এমন দুটি জাতির বন্ধন, যারা শুধু স্বার্থের ভিত্তিতে নয়, বরং কঠিন সময়েও একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।
শনিবার (৬ জুন) ঢাকা সফর শেষে এক বার্তায় হাকান ফিদান এ কথা বলেন। তিন দিনের সফর শেষে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।
এক বার্তায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, এশিয়া-প্যাসিফিক সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দেশটির উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করেছেন তারা।
হাকান ফিদান উল্লেখ করেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আগামী দিনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে উভয় দেশ কাজ করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সফরকালে প্রাপ্ত উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।
সফরের অংশ হিসেবে হাকান ফিদান কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ একটি বড় মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করাই বাংলাদেশ ও তুরস্কের অভিন্ন লক্ষ্য।
এ সময় তিনি কক্সবাজারে তুরস্কের বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মানবতার সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন তিনি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংকটের সময় সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধনকে আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী করে তুলতে কাজ করে যাব।
উল্লেখ্য, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন। শনিবার সফর শেষে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।