দেশের অন্যতম বৃহৎ দুই পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসি’র সময়কাল ও বিষয় সংখ্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার দীর্ঘ সময়, মানসিক চাপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হওয়া—এসব সমস্যা কমাতে বিদ্যমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক পত্রের মাধ্যমে এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এসিটিবি) একটি কর্মপরিকল্পনা ও ধারণাপত্র তৈরি করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।
এনসিটিবির ধারণাপত্র অনুযায়ী বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ২৫–৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০–৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে। দীর্ঘ এই সময়ের কারণে—
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়।
২. অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার সময় কমে যায়।
৩. শিক্ষকদের পাঠদান থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকতে হয়।
৪. ফল প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।
৫. সেশনজটের ঝুঁকি তৈরি হয়।
৬. কর্মশালার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এ বিষয়ে একটি দুই দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, কর্মশালায় উঠে আসা মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কর্মশালায় যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তার মধ্যে রয়েছে—
১. এসএসসি ও এইচএসসি’র বিষয় কাঠামো পুনর্বিন্যাস।
২. একাধিক বিষয় একীভূত করার সম্ভাবনা।
৩. ন্যূনতম বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণের কৌশল।
৪. আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পুনর্গঠন।
৫. ব্যবহারিক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের আধুনিকায়ন।
৬. পরীক্ষার সময় ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্যতা।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসরণ: ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বিষয় সংখ্যা ও পরীক্ষার কাঠামো নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ জন অংশীজন যুক্ত থাকবেন, যার মধ্যে—
১. শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিশেষজ্ঞ।
৩. ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকসহ শিক্ষাবিদ।
৪. অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধি।
বিশেষজ্ঞরা ছয়টি দলে বিভক্ত হয়ে বিষয় একীভূতকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ব্যবহারিক পরীক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে সুপারিশ দেবেন।
এনসিটিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে—
১. পরীক্ষার সময়কাল উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
২. শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ হ্রাস পাবে।
৩. শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান বাড়বে।
৪. শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষতা ও গতি আসবে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ড ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
সূত্র : বাসস