চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির র্যালিটি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আন্দরকিল্লাসহ নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. অজয় দাশ, বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জাবেদ, আগ্রাবাদস্থ সরকারি মেডিকেল সাব-ডিপোর ম্যানেজার ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ এমএসএফ, ব্র্যাক ও আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধিরা। এছাড়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে হাসপাতালের নালায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার।
র্যালি-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কার্যক্রমকে একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করতে হবে। তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে এসব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে পারলেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এয়ার কন্ডিশনারের ট্রে, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের খোল, কনটেইনার, মটকা, ব্যাটারির খোলসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল, বাসাবাড়ি ও আশপাশের যেকোনো পাত্র বা স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করলে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস হয়। জীবন রক্ষায় যেকোনো উপায়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল অপসারণ এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।