উত্তাপে ভরা বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন শেষে সুইমিংপুলের এক কোণে গল্পে মশগুল হলেন দুই কোচ পিটার জেমস বাটলার ও ক্রিসপিন ছেত্রি। ক্যামেরাম্যানদের প্রয়োজন

2026-06-06T09:53:03+00:00
2026-06-06T09:53:03+00:00
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
খেলাধুলা
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
উত্তাপে ভরা বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল
ক্রীড়া ডেস্ক
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৫৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন শেষে সুইমিংপুলের এক কোণে গল্পে মশগুল হলেন দুই কোচ পিটার জেমস বাটলার ও ক্রিসপিন ছেত্রি। ক্যামেরাম্যানদের প্রয়োজন মিটিয়ে ‍দুই অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ও সঙ্গীতা বাসফোরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভক্তদের সেলফির দাবি মেটালেন। দুজন গল্প করলেন হাসিমুখে। মারিয়া ও সঙ্গীতার ভাষা এক-বাংলা। মারিয়া বাংলাদেশি, সঙ্গীতা পশ্চিম বঙ্গের মেয়ে। গল্পও তাই চলল বেশ খানিকটা সময়। ফাইনালের আগে এমনই সম্প্রীতির আবহ চারপাশে। তবে, শিরোপা লড়াই ঘিরে ঠিকই ভেতরে-ভেতরে ছড়াচ্ছে উত্তাপ।

গোয়ায় এদিনের তাপমাত্রাও গরম না, ক্ষণে-ক্ষণে হওয়া বৃষ্টিতে বেশ নরম-ই। জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় যখন মুখোমুখি হবে দুই দল, তখন কী আর আবহ থাকবে এমনটা?

ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল কোনো চাপ নিচ্ছে না বলে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। গোয়ার সমুদ্রপাড়ের এক পাঁচ তারকা হোটেলে আজ শুক্রবার দুপুরে ট্রফি উন্মোচনের আগে সংবাদ সম্মেলনে মারিয়ার কণ্ঠে ঝরল এক পরিণত পেশাদার ফুটবলারের আত্মবিশ্বাস।

বাংলাদেশ ও ভারত—দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলই অবস্থান করছে সমুদ্রপাড়ে একই হোটেলে। ফাইনালের আগে এমন আবহে কোনো মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, জানতে চাওয়া হলে মারিয়া শুরুতেই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন এভাবে, ‘দুই দলই একই হোটেলে অবস্থান করলেও আমরা কোনো চাপ নিচ্ছি না।’

ভারতের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মেয়েদের দীর্ঘদিনের। তাই প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও ভড়কে যাওয়ার পাত্রী নন এই মিডফিল্ডার। নিজের পেশাদার মনোভাব প্রকাশ করে অধিনায়কের কথা, ‘আমরা ভারতের বিপক্ষে এর আগেও অনেকবার খেলেছি, তাই এটি আমাদের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা পেশাদার খেলোয়াড়।’

তবে ফাইনালের মঞ্চে যে অতীতের পরিসংখ্যান খাটে না, মাঠের লড়াই যে সম্পূর্ণ নতুন এক চিত্রনাট্য—সেটি মনে করিয়ে দিয়ে মারিয়া যোগ করেন, ‘মাঠের লড়াই একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন খেলা ও ভিন্ন পরিস্থিতি। আমরা আমাদের সেরাটা দেব। যে দল সেরাটা দিতে পারবে, তারাই জয়ী হবে।’

টুর্নামেন্টে ফাইনালের আগপর্যন্ত গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে স্বাগতিক ভারতের সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। শূন্য গ্যালারির সামনেই ভারত খেলেছে নিজেদের তিনটি ম্যাচ। তবে ফাইনালে হয়তো কিছু দর্শক হলেও হতে পারে। সেটিতে মোটেও ভয় পাচ্ছেন না মারিয়া।

কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালার উপচে পড়া নেপালি দর্শকের সামনে খেলার অভিজ্ঞতা টেনে মারিয়া বেশ পরিপক্ব উত্তর দেন, ‘গ্যালারির দর্শক আমাদের জন্য কোনো সমস্যা হবে না। নেপালে আমরা গত দুটি ফাইনালে অনেক দর্শকের চাপ সামলে খেলে জিতেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো খেলায় এবং নিজেদের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়া। আমরা যদি ভালো ফুটবল খেলার সুযোগ পাই, তবে ফাইনাল জিততে আমরা আমাদের সেরাটা দেব।’

ফাইনালের আগে দলের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘যেহেতু আমরা এখন ফাইনালে, তাই আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজ আমাদের একটি অনুশীলন সেশন ছিল। দলের সবাই খুব ভালো মেজাজে আছে এবং আশা করি, আমরা আগামীকাল একটি ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে মারিয়া স্পষ্ট জানান, তিনি বাহুতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বাঁধুন আর না–ই বাঁধুন, দলের একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবেও তাঁর লক্ষ্য একটাই—দলের জন্য অবদান রাখা। দলনেতা বা সাধারণ খেলোয়াড় যে ভূমিকাই হোক না কেন, তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেবেন। সতীর্থদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভালো করার চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সবশেষে দেশের ফুটবল ভক্তদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন মারিয়া মান্দা। সাফে হ্যাটট্রিক ট্রফি উঁচিয়ে ধরার এই ঐতিহাসিক লক্ষ্য পূরণে পুরো দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।



Loading...
Loading...

খেলাধুলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: