জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, পরিদর্শনের সুযোগ দিলেও ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও অবস্থান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছে। বিষয়টি উঠে এসেছে ব্লুমবার্গ–এর হাতে আসা একটি গোপন ১০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ইরান বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আইএইএ পরিদর্শকদের তিন দিনের সফরের অনুমতি দিলেও দেশের অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনা ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুদের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য দেয়নি। ফলে সংস্থাটি ইরানের ঘোষিত পারমাণবিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ যাচাই করতে পারছে না।
আইএইএর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সংস্থাটির ধারণা অনুযায়ী, বিদ্যমান মজুত দিয়ে সম্ভাব্যভাবে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব হতে পারে—তবে স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আইএইএ পরিদর্শকরা এখনো ফোর্দো, ইস্ফাহান ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করতে পারেননি। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং বিপুল পরিমাণ নিম্নমাত্রার পারমাণবিক উপাদান ছিল বলে জানা যায়।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ইরানের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একটি টেকসই, যাচাইযোগ্য এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব। তিনি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কূটনৈতিক নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস দাবি করছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত দুর্বল হয়ে গেছে। তবে একই সঙ্গে তারা ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে আরও তথ্য ও প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগামী ৮ জুন ভিয়েনায় আইএইএ বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত বা তথ্য আসতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।