সরবরাহ সংকট এবং সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রামে মাছ ও সবজির বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কোরবানির ঈদের পর টানা মাংস খাওয়ার পর অনেক ক্রেতা এখন মাছ ও সবজির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দামও বেড়েছে।
অন্যদিকে কোরবানির পর গরুর মাংসের অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকলেও সীমিত কিছু দোকানে খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তবে সরবরাহ কম থাকায় অনেক সবজির দাম বেড়েছে। এক সবজি বিক্রেতা বলেন, চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম। তাই দাম কিছুটা বাড়তি। বাজার স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে।
বর্তমানে বাজারে সবজির দাম কেজিপ্রতি এভাবে বিক্রি হচ্ছে— আলু ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ও ছড়া ৮০ টাকা, শশা ৮০ টাকা, দেশি টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ১৬০ টাকা, বাঁধাকপি ১৮০ টাকা এবং ধনেপাতা ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে অধিকাংশ মাছ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে নদী, পুকুর, খাল ও লেকের মাছের চাহিদা বেশি।
রুই, কাতলা ও কালিবাউস মানভেদে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ ৩০০ টাকা, সরপুঁটি ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং লইট্টা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিতল ও সুরমা ৭০০ টাকা, কালা চান্দা ৭৫০ টাকা, লাল পোপা ৬০০ টাকা, লাল কোরাল ৮০০ টাকা, চাপিলা ৮০০ টাকা, লইল্যা চিংড়ি ৯০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ও চকরিয়ার ভেটকি কোরাল ১ হাজার টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রায় দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ ফিরোজ জানান, ঈদের পর থেকেই বিক্রি বেড়েছে। মানুষ এখন পুকুর ও নদীর মাছ বেশি কিনছেন। সাগরে মাছ ধরা শুরু হলে দাম কিছুটা কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে মুরগি ও ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দেশি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমে ৬৮০ টাকায় নেমেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
ডিমের বাজারেও ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে ফার্মের ডিম ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।