নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বৃদ্ধা মাকে হত্যা করে নিজ শোয়ার ঘরে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে গেছে। বুধবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘরের মাটি খুঁড়ে ওই নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত মারুফা বেগম (৬০) ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে মো. জুয়েল (৩৫) পেশায় একজন ভ্যানচালক।
জুয়েলের ছোট ভাই লাবিন (৩০) জানান, তিনি পোশাককর্মী হিসেবে ঢাকায় কাজ করেন। ঈদে বাড়িতে এসে শুক্রবার জুমার নামাজের পর শ্বশুর বাড়িতে চলে যান। ২ জুন রাতে মা মারুফা বেগম, বড় ভাই জুয়েল, ভাবি হাসি বেগম (২৭) ও ভাতিজা বাড়িতে ছিল। শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পর তিনি বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরে মাটিতে ফাটল দেখেন এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পান। পরদিন গতকাল বুধবার (৩ জুন) সকালে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ওই শোয়ার ঘরের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হলে রাতে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার সামনে বাম দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখা হয়।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল পলাতক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও জুয়েলের ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় আনা হয়েছে। নিহতের ছোট ছেলে বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের জন্য এসেছে। হত্যাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।