বড় বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, সামনে যত সীমাবদ্ধতাই থাকুক না কেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তা অতিক্রম করে সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। পৃথিবীর যেসব মানুষ মেধা ও কর্মে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
মঙ্গলবার (০২ জুন) সকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট (জেলা পর্যায়)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১১টি স্কুল দল অংশগ্রহণ করছে।
তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, অনেকের মনে হতে পারে সুযোগ-সুবিধার অভাব বা নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু যারা সফল হয়েছেন, তারা সংগ্রাম, ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, আত্মনিবেদন এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির নতুন নতুন সংস্করণের মতোই আমাদেরও প্রতিদিন নিজেদের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে হবে। একজন ব্যাটসম্যানকে আগামীকাল আজকের চেয়ে ভালো খেলতে হবে, একজন বোলারকে নতুন নতুন বৈচিত্র্য আনতে হবে। শেখার কোনো শেষ নেই।
জেলা প্রশাসক তরুণদের দেশের প্রকৃত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেকের একটি লক্ষ্য ও স্বপ্ন থাকা প্রয়োজন—যা নিজের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। ভবিষ্যতে তরুণরাই দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তি ও অনলাইন গেমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, একা বড় কোনো কাজ করা যায় না। খেলাধুলা আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে শেখায়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে—যা দেশ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।