চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় গত চার দিনে হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে মৃত্যুসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কও বাড়ছে।
গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন একটি মৎস্য খামারের পুকুর থেকে শিশু মুমতাহিনা ও খামার মালিক মফিজ উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুকুরে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে খামার মালিকও পানিতে ডুবে মারা যান।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার হাজারীখিল এলাকার রাঙাপানি চা-বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিহত হন দুই যুবক সীমান্ত দাশ ও জয় মল্লিক।
একদিন পর সোমবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলী এলাকায় বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে শাহজাহান ও আরিফের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে একই দিন বিকেলে নয়াবাজার এলাকায় আরেকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রবাসী রবিউল ইসলাম।
মাত্র চার দিনের ব্যবধানে উপজেলায় হত্যা, পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জনের প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।
ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, বাগানবাজারে ফেসবুক ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই জাফরের হাতে ছোট ভাই জয়নাল নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভিন বাদী হয়ে জাফরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত জাফরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাঙাপানি চা-বাগান এলাকায় নিহত দুই যুবক বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য দেখতে এসেছিলেন। ফেরার পথে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার শিকার হন। পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। যেহেতু এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, তাই বিনা ময়নাতদন্তে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি থানার হেফাজতে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, পৃথক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পুকুরে ডুবে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
চার দিনের ব্যবধানে ধারাবাহিক এসব প্রাণহানির ঘটনায় ফটিকছড়িজুড়ে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।