পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
শনিবার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি। ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে বদহজম, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিকের তীব্র সমস্যা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এবং হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদেরও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
কেরানীগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে আসা মনির হোসেন বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ডাক্তার দেখাতে পেরেছি। রোগী অনেক, কিন্তু চিকিৎসক কম থাকায় সবাইকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চার বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসা আল-আমীন জানান, কয়েকদিন ধরে মেয়ের চোখ লাল হয়ে আছে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে এনেছেন। তিনি বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেশি। অথচ মাত্র দুজন ডাক্তার চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
পেটের সমস্যায় আক্রান্ত নাতিকে নিয়ে আসা শেফালী বেগম বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন ডাক্তার দেখাতে পারব, সেটাও নিশ্চিত নই।
এদিকে বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে আসা আলমগীর হোসেন দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানালেও তাকে লাইনে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে তিনি বলেন, বুকে প্রচণ্ড ব্যথা করছে, দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু সামনে দীর্ঘ লাইন থাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগেও ছিল রোগীর চাপ। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ঈদের ছুটির কারণে চিকিৎসকদের নিয়মিত রাউন্ড আগের তুলনায় কমে গেছে।
শিশু বিভাগের এক অভিভাবক বলেন, কয়েকদিন আগে বাচ্চাকে ভর্তি করেছি। আগে চিকিৎসকরা নিয়মিত রাউন্ড দিতেন, কিন্তু ছুটির কারণে এখন সেই উপস্থিতি কম।
টিকিট কাউন্টারের কর্মী সোহেল জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ভাষ্য, অধিকাংশ রোগী পেটের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো সবাইকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটির কারণে অনেক চিকিৎসক ও নার্স ছুটিতে রয়েছেন। তবে জরুরি বিভাগে শিফটভিত্তিক চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। বহির্বিভাগ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আশা করছি আগামীকালের মধ্যে অধিকাংশ চিকিৎসক ও নার্স কর্মস্থলে ফিরে আসবেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। একইভাবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএমএ রুস্তমের অফিস কক্ষেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঈদের ছুটিতে রোগীর বাড়তি চাপ ও জনবল সংকটের কারণে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেছেন।