ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে আরও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই সমঝোতা কার্যকর করতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থবির থাকা কূটনৈতিক আলোচনা নতুন গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমঝোতার বিস্তারিত এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয় এবং ৬০ দিনের সময়সীমা চূড়ান্ত আলোচনার নির্ধারিত ডেডলাইন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে চলমান যুদ্ধবিরতি থাকলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বৃহস্পতিবারও সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য এই চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবাধ রাখার বিষয়টি। পাশাপাশি ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইরান যদি প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বা টোল ব্যবস্থা চালু করে, তবে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সামনে তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে— হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পরিত্যাগ করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা।
তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নেই এবং তারা অপমানজনক কোনো কূটনীতিতে বিশ্বাস করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা হরমুজ ইস্যুতে কিছুটা স্থিতি আনতে পারে, তবে নিষেধাজ্ঞা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ এখনো বড় বাধা হয়ে রয়ে গেছে। পাশাপাশি লেবানন পরিস্থিতিও আলোচনার নতুন জটিল ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে, যেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।