ঈদুল আজহার কোরবানির ব্যস্ততা শেষে ছুটির আমেজে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ২৯মে) থেকেই লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রে নেমে আনন্দ উপভোগ করছেন, কেউ পরিবার নিয়ে সৈকতের বালুচরে হাঁটছেন, আবার অনেকে ক্যামেরায় ধরে রাখছেন স্মৃতিময় মুহূর্ত।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঈদের প্রথম দুই দিনে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে পর্যটকের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও এখন ধীরে ধীরে ভিড় বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে সর্বোচ্চ পর্যটক আগমনের আশা করছেন তারা।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকতের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি লাইফগার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
পর্যটকরা জানান, কোরবানির ব্যস্ততা শেষে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রের নীল জলরাশি ও ঢেউয়ের গর্জনের মাঝে সময় কাটানো তাদের জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার এখন পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত পর্যটন নগরীতে, যেখানে উৎসবের আমেজ আর সমুদ্রের সৌন্দর্য মিলেমিশে তৈরি করেছে অনন্য পরিবেশ।