সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’-এর সঙ্গে তুলনা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
শুক্রবার (২৯ মে) সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আবদুস সালাম ও ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, প্রতিমন্ত্রীর এমন “চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র্যাংকিং অনুযায়ী এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি সক্রিয় ও বিশেষায়িত গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাদা দলের নেতারা আরও বলেন, প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণাকে খাটো করে দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম, বিকাশ ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা ও সীমিত বাজেটের মধ্যেও শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।”
বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সাদা দল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, অবিলম্বে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে তার মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
এর আগে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টার বলি। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে গবেষণা করে, তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং শতাধিক মেজর থাকা সত্ত্বেও গবেষণার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় “অনেক বেশি” কাজ করছে।