বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিমদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে চরম সংকট আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, খাদ্যাভাব ও দারিদ্র্যের কারণে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের কাছে নতুন পোশাক, ভালো খাবার কিংবা কোরবানির পশু এখন যেন বিলাসিতার নাম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাজারে পণ্য থাকলেও অধিকাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নেই। অনেক পরিবার শিশুদের জন্য ন্যূনতম খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় ভেঙে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে কোরবানির পশু নিয়ে। আগে যে ভেড়া বা ছাগল প্রায় এক হাজার শেকেলে কেনা যেত, এখন তার দাম বেড়ে ১১ থেকে ১৫ হাজার শেকেলে পৌঁছেছে। অর্থাৎ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া দামের কারণে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই কোরবানি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গাজার কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে অসংখ্য খামার ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে পশুখাদ্যের ঘাটতি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পশুর সংকট তীব্র হয়েছে। বর্তমানে পুরো গাজায় যুদ্ধের আগের তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশ পশু অবশিষ্ট রয়েছে।
এদিকে শুধু কোরবানিই নয়, ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিও কঠিন হয়ে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার ঘরে পিঠা, বিস্কুট বা অন্যান্য খাবার প্রস্তুত করতে পারছে না। তারপরও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ এখন ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ না করায় নিত্যপণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিও দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, এখন তাদের জীবনে আনন্দের চেয়ে ভয়, অনিশ্চয়তা ও বেঁচে থাকার সংগ্রামই বেশি। যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই গাজাবাসী পালন করছে এবারের ঈদুল আজহা।