কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে সময়বদ্ধ ও কঠোর পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এবার ঈদুল আজহায় কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে কার্যক্রম শুরু করে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরের বর্জ্য পরিষ্কার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
সোমবার দুপুরে টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রস্তুতি সভায় এ নির্দেশনা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সভায় মেয়র বলেন, দুপুর ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরের বর্জ্য পরিষ্কার সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকেই তিনি নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে থাকবেন। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে তদারকি কার্যক্রম শুরু করবেন তিনি।
মেয়র বলেন, নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করতে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে জবাই শেষে চসিকের দেওয়া পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে রাখার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ ও এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, চামড়া যেন কোথাও পড়ে থেকে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি না করে, সেজন্য চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখারও নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।
সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে, সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করতে পারা তিনটি ওয়ার্ডের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। তবে দ্রুততার কারণে পরিচ্ছন্নতার মান যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
ঈদের দিন দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। খাবারের মান নিশ্চিত করতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া সফল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।