‘গুলি করেছি মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’

অনলাইন ডেস্ক

আইন-আদালত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর মেরাদিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন সাক্ষী মো. রুহুল আমীন। সে সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন,

2026-05-19T18:30:47+00:00
2026-05-19T18:30:47+00:00
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
আইন-আদালত
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী
‘গুলি করেছি মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’
অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৬:৩০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর মেরাদিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন সাক্ষী মো. রুহুল আমীন। সে সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালে গিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন এভাবেই চিকিৎসককে শাসিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মঙ্গলবার (১৯ মে) এমন জবানবন্দি দেন রুহুল আমীন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার আসামি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবি কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এর মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত সাবজেলে আছেন এবং তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রাশেদুল ও মশিউর পলাতক।

জবানবন্দিতে সাক্ষী রুহুল আমীন বলেন, তিনি কেয়ারটেকারের চাকরি করেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র–আন্দোলন দেখতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন ছাত্রদের ওপর গুলি করছেন। আরও দেখতে পান যে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছু লোক মারা গেছেন, কিছু লোক আহত হয়ে পড়ে আছেন। সবাই রক্তাক্ত ছিলেন। ভয়ে পেছনে বাসার দিকে রওনা দেন রুহুল আমীন। তখন একটি গুলি তাঁর কোমরের নিচে লেগে সামনে দিয়ে বের হয়ে যায় (সাক্ষী গুলিবিদ্ধ স্থানটি দেখান)।

গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে কয়েকজন রুহুল আমীনকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাতে তাঁকে মুগদা হাসপাতাল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তাঁকে দেওয়া হয়নি। পরে বাসায় ফিরে যান উল্লেখ করে জবানবন্দিতে রুহুল আমীন বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁর বাসায় আসেন এবং বলেন, তুমি গুলি খেয়েছ, এই এলাকায় থাকতে পারবে না। তবে ওই এলাকার নির্দলীয় একজন তাঁকে ভরসা দেন। পরে রুহুল আমীন নিজ খরচে ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে রুহুল আমীন জানতে পারেন যে বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদ ও ওসি মশিউর গুলি করেছেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রুহুল আমীন। তিনি আসামিদের বিচার দাবি করেন।


Loading...
Loading...

আইন-আদালত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: