চারটির মধ্যে তিন স্ক্যানার অচল, শাহজালালে রপ্তানিকারকদের দুশ্চিন্তা তীব্র

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয়

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ রপ্তানি পণ্য পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত চারটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) স্ক্যানারের মধ্যে তিনটি বিকল হয়ে

2026-05-18T21:04:20+00:00
2026-05-18T21:05:19+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
চারটির মধ্যে তিন স্ক্যানার অচল, শাহজালালে রপ্তানিকারকদের দুশ্চিন্তা তীব্র
অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম  আপডেট: ১৮.০৫.২০২৬ ৯:০৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ রপ্তানি পণ্য পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত চারটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) স্ক্যানারের মধ্যে তিনটি বিকল হয়ে পড়ায় আকাশপথে রপ্তানি কার্যক্রমে চাপ বেড়েছে। এতে কার্গো জট, ফ্লাইট মিস, অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠানো নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন রপ্তানিকারক ও ফ্রেইট অপারেটররা।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর নির্ধারিত সময়সীমা মেনে পণ্য পাঠাতে এখন আকাশপথে রপ্তানির চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে স্ক্যানার–সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ আজ সোমবার বলেন, দুটি স্ক্যানার এক বছরের বেশি সময় ধরে বিকল। গত মাসে আরও একটি স্ক্যানারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। সেটি মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী ২৫ মে নাগাদ চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি স্বীকার করেন, স্ক্যানার–সংকটের কারণে রপ্তানি পণ্য স্ক্যানিংয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করে কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য, গতকাল রবিবার প্রায় ৮২০ টন রপ্তানি পণ্য স্ক্যান করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সৈয়দ মো. বখতিয়ার বলেন, চারটির মধ্যে তিনটি স্ক্যানার অচল থাকায় রপ্তানিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। কোন পণ্য আগে স্ক্যান হবে তা নিয়ে হুড়োহুড়ি লেগে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো স্ক্যানিং না হওয়ায় ফ্লাইটও মিস হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা দাবি করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টন পণ্য বিমানবন্দরে আনা হচ্ছে, যার বেশির ভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রগামী। ব্যস্ত মৌসুমে এ পরিমাণ বেড়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ টনে পৌঁছে যায়। পাশাপাশি আম, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফলও এখন আকাশপথে রপ্তানি হচ্ছে, যেগুলোরও স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক। দ্রুত স্ক্যানারগুলো সচল করা না গেলে ফল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ইডিএস স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের বাইরের গন্তব্যের পণ্য ‘নন-আরএ৩’ স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এ ধরনের ছয়টি স্ক্যানারের মধ্যে বর্তমানে তিনটি সচল, একটি বিকল এবং দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর (ইডিডি) স্কোয়াডের ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে।

কবির আহমেদ বলেন, ডগ স্কোয়াড মূলত জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু মাত্র একটি স্ক্যানার দিয়ে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই ফ্লাইটগুলো যেন ধারণক্ষমতার চেয়ে কম পণ্য নিয়ে ছেড়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করছে।

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার নাসির আহমেদ খান জানান, বর্তমানে সচল থাকা একমাত্র ইডিএস স্ক্যানারটি মূলত লন্ডনগামী কার্গোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি মাত্র স্ক্যানার দিয়ে কোনোরকমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে; আর বিকল্প হিসেবে ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

নাসির আহমেদ সতর্ক করে বলেন, রপ্তানি চাহিদা বাড়লে এয়ারলাইনসগুলো ঢাকা রুটে তাদের কার্গো কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে স্ক্যানারগুলো অচল হয়ে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত এগুলো মেরামতের দাবি জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এই একমাত্র মেশিনটিও যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বিমানবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্ক্যানারগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করতে বিজিএমইএ ইতিমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।খাত-সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিমানবন্দরটিতে এখন দৈনিক ৪০০ থেকে ৬০০ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে। পণ্য রপ্তানির পরিমাণ কম থাকায় সাময়িকভাবে সংকটটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, রপ্তানি আদেশ বাড়লে পণ্য স্ক্রিনিংয়ের বর্তমান সীমিত সক্ষমতা বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কবির আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে চাপ তুলনামূলক কম। তবে বিমানবন্দর যখন প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সন্তোষজনক থাকে। কিন্তু স্ক্যানার সংকটের কারণে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে এখনই ডগ স্কোয়াডের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এই খাতের স্টেকহোল্ডাররা সমাধানের দাবি জানিয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন; শিগগিরই আরেকটি চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড স্টোর ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আহসান হাবীব জানান, এই বিশেষায়িত স্ক্যানারগুলোর জন্য আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশ লাগে, যা বাংলাদেশে সহজে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়; এতে কিছুটা সময় লাগে। তবে কর্তৃপক্ষ হাত গুটিয়ে বসে নেই; সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: