পরিমার্জন হচ্ছে পাঠ্যবই, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষা

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে

2026-05-15T12:44:27+00:00
2026-05-15T12:54:52+00:00
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
শিক্ষা
এনসিটিবি চেয়ারম্যান
পরিমার্জন হচ্ছে পাঠ্যবই, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস
অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম  আপডেট: ১৫.০৫.২০২৬ ১২:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এসব তথ্য জানান।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছিল, এবার তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বীর নায়কদের কার কী অবদান, তা সঠিকভাবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে। ইতিহাসের একপেশে স্বীকৃতি সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হবে। এছাড়া ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনব্যাপী নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকের বই পরিমার্জনের কাজও চলমান রয়েছে।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী আরও জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বই পরিমার্জনে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষক রয়েছেন।

মাধ্যমিকের বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করে এখন প্রাথমিকের বই নিয়ে কাজ চলছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ সব স্তরের মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই পরিমার্জিত ও নির্ভুল বই হাতে পায়, সে লক্ষ্যেই দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। 

শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করা হচ্ছে।

এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি বই প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সাতটি গেমসের ভিত্তিতে বইগুলো সাজানো হয়েছে।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে। পর্যায়ক্রমে এটি অন্য শ্রেণিতেও যুক্ত করা হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্দীপনামূলক বইও আগামী বছর যুক্ত করা হচ্ছে।

আইসিটি বইয়ের আমূল পরিবর্তন প্রসঙ্গে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান বইগুলো অনেকটাই পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বইগুলো প্রায় নতুনভাবে সাজাচ্ছি। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।’

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান সরকার তার নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষার্থী-বান্ধব নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছে। এর মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’। এতে বইয়ের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়বে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০২৭ সালের জন্য আমরা পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ করছি। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলামও হতে পারে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুসরণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দের সঙ্গে শিখবে, তখন অভিভাবকরাও এটি পছন্দ করবেন।’

২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিচ্যুতিমুক্ত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।


  বিষয়:   পাঠ্যবই  এনসিটিবি চেয়ারম্যান 


Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: