বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আগামী ১০ জুন চতুর্দশতম বারের মতো পালিত হবে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস–২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে দুধ পান করানো হবে। পাশাপাশি দুগ্ধশিল্পে নারী খামারিদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো একজন নারী দুগ্ধ খামারি ও একজন নারী দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুম বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উদ্যোগে প্রতিবছর ১ জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হয়। তবে এবছর বাকৃবিতে ১০ জুন দিবসটি উদযাপন করা হবে। ডেইরি সায়েন্স বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৯ জুন বিকেলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং হোম কিচেন ডেইরি রেসিপি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ জুন সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে দুধ পান করানো হবে। এছাড়া বর্ণাঢ্য র্যালি, সচেতনতামূলক সেমিনার, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সভা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
এ বছরের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দুগ্ধশিল্পে নারী কৃষকদের অবদান উদযাপন’। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। আলোচক হিসেবে থাকবেন ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এম এ সামাদ খান, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুম।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস–২০২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব বলেন, এ বছরের অন্যতম বিশেষ দিক হলো একজন নারী দুগ্ধ খামারি এবং একজন নারী দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান। দুগ্ধ খাতে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আরও উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, একজন পুরুষের দৈনিক দুধের চাহিদা প্রায় ২৫০ মিলিলিটার হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। মাতৃত্বকালীন ও পরবর্তী সময়ে শরীরের ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত দুধ পান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারীদের মধ্যে দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী চাহিদা পূরণে প্রয়োজন প্রায় ১৬ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা প্রায় ২৩৯ মিলিলিটার, যেখানে প্রয়োজন ২৫০ মিলিলিটার। নারীদের জন্য এ চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিলিটার। ফলে দেশে এখনো তরল দুধের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় পশুপালন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন বলেন, মানবদেহের বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য দুধে থাকা প্রায় সব উপাদানই প্রয়োজনীয়। বর্তমানে দুধের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দেশের দুগ্ধ শিল্পের আরও প্রসারে ডেইরি বিজ্ঞান শিক্ষাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।