পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন চতুর্থ দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে সংহতি জানান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক দুর্নীতি এবং বহিরাগতদের দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার বিচার ও উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
গত ১১ মে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ। ওইদিন আন্দোলনের সময় স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সমর্থকদের হামলায় কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন শিক্ষকের তিনটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং আরেকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
তিনি আরও জানান, চলমান আন্দোলনের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি কমাতে আগামী ১৭ মে থেকে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সব সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তিনি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।