হাওর জনপদ নিকলীর জনজীবন ও চিকিৎসা

মো. মতিউর রহমান

মতামত

(এক)অজপাড়াগাঁয়ের মানুষদের রাগ একটু বেশি থাকে। তারা কোনো কিছু লুকাতে অক্ষম। এই অক্ষমতা আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। আমি অজপাড়াগাঁয়ের একজন প্রতিনিধি।

2026-05-11T14:53:04+00:00
2026-05-11T14:53:04+00:00
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
মতামত
হাওর জনপদ নিকলীর জনজীবন ও চিকিৎসা
মো. মতিউর রহমান
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২:৫৩ পিএম 
(এক)
অজপাড়াগাঁয়ের মানুষদের রাগ একটু বেশি থাকে। তারা কোনো কিছু লুকাতে অক্ষম। এই অক্ষমতা আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। আমি অজপাড়াগাঁয়ের একজন প্রতিনিধি। স্বভাব পাল্টাতে নাকি কয়েক জেনারেশন শিক্ষিত হওয়া লাগে। সে হিসাবেও আমি এক জেনারেশন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া একজন। শিক্ষিত দাবি করার মতো সাহস আমার নেই। আমার চাকরি স্থলের অধিকাংশ মানুষ পড়াশোনা জানতো না বলেই আমি তাদের নিকট ছিলাম কখনো সমাদৃত, কখনো নিরেট বোকা। বোকা বলেই নিকলীর অনেক লোক আমাকে ঠকিয়েছে। অনেকে রোগী দেখিয়ে বড় নোটের খুচরা আনার নাম করে টাকা না দিয়ে চলে গেছে। বাড়িতে কলে নিয়ে টাকা পরে দেবে বলে আর দেয়নি। অনেক গরিব মানুষের বাড়িতে কলে গিয়ে আমি টাকা নিইনি। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে অনেক কিছু শিখেছিলাম বলেই ঠকেও খুব মন খারাপ হতো না। মন খারাপ একেবারে যে হতো না, তা বললে মিথ্যা বলা হবে।
আমার কলিগ ছিলেন ডাক্তার মোহাম্মদ আলী ভাই। যিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। নিকলীর অনেক নামীদামী মুক্তিযোদ্ধা তার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। মোহাম্মদ আলী ভাইয়ের বাসায় নিকলীতে প্রথম রাত যাপন করেছিলাম অতিথি হিসেবে। ভাগ্যিস সেদিন তার পরিবার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিল। না হয় সেদিন আমাকে মসজিদে অথবা হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে রাত কাটাতে হতো। আমার যোগদানের সময় বস হানিফ সাহেব অনুপস্থিত ছিলেন আর ওমেদ আলী ভাই তবলিগ জামাতে ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে তখন গেস্ট থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। নিকলীর ডাকবাংলোটা অনেক অফিসার সারা বছর রিজার্ভেশন করে সরকারি রেটে ভাড়া পরিশোধ করতেন। নিকলীতে থাকার কোনো হোটেল তখনও হয়নি।
খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় হোটেল তৈরি করা হয় না। হাতেগোনা কিছু অফিসার ছাড়া অন্য কেউ পারতপক্ষে নিকলীতে রাত্রিযাপন করত না। মোহাম্মদ আলী ভাই ছিলেন সত্যিকার অর্থে একজন ঝামেলামুক্ত মানুষ। তিনি সংসার, অফিস আর কৃষি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। একটা বেগুন গাছে সারা বছরে দেড় মণ বেগুন ফলাতেন। তার ফসলে আমরাও মাঝে-মধ্যে ভাগ বসাতাম। রাসায়নিক সার ছাড়া ফসল ফলাতেন তিনি। তার নিজ গৃহও সন্তানাদিতে ভরপুর ছিল।
ওমেদ আলী ভাই ছিলেন অবিবাহিত, তবলিগী ও ব্যবসায়িক মনোভাবসম্পন্ন মানুষ। আমি তাদের মধ্যে গিয়ে প্রাইভেট প্রাকটিস শুরু করি একান্ত দায়ে পড়ে। কিছুদিন পরে নিকলীতে পোস্টিং হয়ে আসেন ডাক্তার ইয়াসিন মোল্লা। তিনি ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় ওমেদ আলী ভাইয়ের চাইতে এক ধাপ উপরে ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ভাইয়ের কৃষি কাজ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি ফুলের বাগান করি। আমার বাসার সামনে কয়েকটা গন্ধরাজ ফুলের গাছ ছিল। বাগানের সীমানা করা আছে, শুধু বেড়া দিলেই বাগান করা যায়। একসময় যিনি এই কোয়ার্টারে ছিলেন হয়তো তিনি বৃক্ষপ্রেমী ও ফুলপ্রেমী এমন কেউ হবেন। একসময় ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া সাহেব এই বাসায় থাকতেন, যিনি নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারিদিকে একশোরও অধিক নারিকেল গাছ লাগিয়ে তার বৃক্ষপ্রেমের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনিই হয়তো এই সরকারি বাসার সামনে বাগান করতেন। অনেক সময় দুষ্টু ছেলেরা ফুলের গাছ চুরি করে নিয়ে যেত। মনে ব্যথা পেলেও মনে করতাম এরা চোর হলেও রুচিশীল চোর। তারা তাদের বাড়িতে আমার বাগান থেকে চুরি করা গাছে ফুল ফুটাবে, এমনটা ভেবে মনে শান্তি পেতাম। অপূর্ব বাবু ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডাক্তার। নিকলীতে পরিচিত হই ডাক্তার কুদ্দুস ভাইয়ের সঙ্গে। যার স্থলে আমাকে পদায়ন করা হয়েছিল। পরে নিকলীতে কিছুদিনের জন্য ছিলেন ডাক্তার সুফিয়া।
আমাকে অনেক সময় ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ এরকম অবস্থায় পড়তে হতো। প্রাইভেট প্রাকটিস ডাক্তারদের মধ্যে বিভেদের সূত্রপাত করে। এমনই আমি শুনেছিলাম। এ অবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত হই নিকলীতে গিয়ে। একজন ডাক্তার কিছুদিন নিকলীতে ছিলেন, তার নাম ছিল মোকসেদ ঢালী। তিনি বেশ চালাক-চতুর ছিলেন। তার চালাকির কাছে ওমেদ আলী ভাই ও মোল্লা ভাইকে হার মানতে হয়েছিল। মারামারি করে আসা রোগী অন্যের অধীনে ভর্তি থাকলেও তিনি ইনজুরি সার্টিফিকেট দিয়ে দিতেন। ইনজুরি সার্টিফিকেট দেওয়া অনেকেই পছন্দ করত না বলে তা নিয়ে কোনো ঝামেলা হতো না। তবে ওমেদ আলী ভাই ও মোল্লা ভাই দুঃখ প্রকাশ করতেন।
বর্ষাকাল নিকলীর লোকজনের কাছে আনন্দ-উল্লাসের সময়। ধনীদের হাতে কোনো কাজ থাকে না, থাকে গোলাভরা ধান। গরিবের জন্য আছে নদী ও হাওরে ধরার মতো প্রচুর মাছ। বর্ষাকালে নিকলীতে নৌকা বাইচ হয়। নিকলীবাসীর সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন এসবের আয়োজন করে। দিগন্ত বিস্তৃত হাওরের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানের সীমারেখা টেনে নৌকা বাইচ হয়। প্রশাসন ও গণ্যমান্য লোকজন কার্গোতে বসে নৌকা বাইচ উপভোগ ও পরিচালনা করে। হাজার-হাজার সাধারণ মানুষ শত-শত নৌকায় বসে নৌকা বাইচ উপভোগ করে। তাদের উত্তেজনা ও আনন্দের সীমা-পরিসীমা থাকে না। মাইকে গান বাজতে থাকে। উৎসুক জনতা আনন্দে চিৎকার করে। বাইচের নৌকাগুলো অনেক লম্বা হয়, একটা নৌকায় পঞ্চাশ-ষাটজন মাল্লা বসে। বাইচ শুরু হলে একজন মাল্লা যিনি মাল্লাদের প্রধান, নৌকার সামনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য গান ধরে, যার সঙ্গে সকল মাল্লা একসঙ্গে সুর ধরে। সব বাইচের নৌকায় একসঙ্গে বিভিন্ন গান চলে, সঙ্গে পানিতে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ! তাই কেবলমাত্র বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শোনা যায়। গানের কথা দু-চারটা কদাচিৎ বুঝতে পারা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। নৌকা বাইচ যে আনন্দের তা কেবল ভাটি এলাকার মানুষজন জানে আর জানে যারা কাছে থেকে এসব দেখে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল আয়োজকদের একজন হয়ে নৌকা বাইচ দেখার।
একসময় নিকলীতে প্রচুর পাট চাষ করা হতো। পাটকে কেন্দ্র করে প্রচুর গোডাউন গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন কোম্পানির নামে। পাট চাষ কমে যাওয়ার ফলে গোডাউনগুলোর অধিকাংশ পরিত্যক্ত হয়। কোনো এক কালে নিকলীতে সি-ট্রাক বিমান নামতো। কোম্পানির সাহেবরা সি-ট্রাক বিমানে চড়ে নিকলী ও দামপাড়ায় যেত পাটের গোডাউন পরিদর্শন করতে। নিকলীর লোকজন বর্ষাকালে পরিত্যক্ত গোডাউনে গান-বাজনার আয়োজন করে। গভীর রাতে ভাড়া করা নৌকায় আনন্দ-ফূর্তি বেচা-কেনার ব্যবসাও চলে। একসময় গণিকাদের বাসস্থান ছিল বাংলার অধিকাংশ বাজারের কোণায় নির্জন স্থানে। পাকিস্তান হওয়ার পর গণিকালয় কেবল শহুরে হয়ে যায়। মানুষের জৈবিক তাড়না যেমন ছিল, বর্তমান রয়ে গেছে। 
বর্ষাকালে নিকলীতে নাচগানের আসর বসত নৌকায়, কার্গোতে ও গোডাউনে। মাঝে-মধ্যে দেহব্যবসার খবরও আসত প্রশাসনের কাছে। মানুষ আমোদপ্রিয় প্রাণী। দুঃখে ভরা জীবনে মানুষ তার শত কষ্টের মধ্যেও আনন্দ উপভোগ করতে চায়। বর্ষাকালে পূজা, নাচগান, জারিসারি গান, যাত্রাপালা সব কিছু হতো নিকলীতে।
রাগ প্রশমন করা বা রাগান্বিত হওয়া থেকে বিরত থাকা কঠিন কাজ। দোষে-গুণে মানুষ। রাগ মানুষের দোষের মধ্যে অন্যতম একটি। বিদগ্ধজনেরা বলেন, ‘রাগলেন তো হেরে গেলেন।’ কথাটা জানার পরেও আমরা রাগারাগি করি, রাগের বশে নিজের ক্ষতিও করি। নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন একজন নামিদামি মানুষ। যিনি রাগের বশে ওমেদ আলী ভাইকে হাসপাতালে রিভলবার প্রদর্শনের জন্য জেলে গিয়েছিলেন। নিকলীর হিসাবরক্ষণ অফিসের একজন অডিটর, ডাক্তার মোজাম্মেল হোসেন ভাইয়ের কাছে টিএ বিল পাসের জন্য পার্সেন্টেজ দাবি করে মামলার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মোজাম্মেল হোসেন ভাই কোনো সময় খুব একটা রাগতেন না। তিনি ফ্রয়েডের সাইকোলজি পড়তেন। মানব মনের নানা দিক বিশ্লেষণ করে আনন্দ অন্বেষ্ণণ করতেন।

(দুই)
সারা দেশের মতো নিকলীতে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় জাঁকজমকের সঙ্গে। দুর্গাপূজার আড়ম্বরতা আগে এতটা ছিল না। যুগের চাহিদার সঙ্গে মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে নানা রকম থিম নিয়ে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি হয়। বাংলাদেশও এ ব্যাপারে খুব একটা পিছিয়ে নেই। ১৯৮৭ সনের শেষ দিক থেকে ১৯৯০ সন পর্যন্ত নিকলীতে চাকরি করেছি। তখন দুর্গাপূজার প্রতিমা গঁৎবাধা ছিল। দেবী দুর্গার চিরাচরিত প্রতিমা গড়া হতো, সঙ্গে দুর্গার সন্তানদের প্রতিমা ও দেবী দুর্গার হাতে বধকৃত অসূরের মূর্তি থাকত। আমার মনে হয়, তখন ভক্তি-শ্রদ্ধা বেশি ছিল দুর্গাপূজায়। কালের আবর্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মননশীলতার পরিবর্তন হয়েছে। যার ফলে ভক্তির জায়গা আড়ম্বর দখল করে নিয়েছে। আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মেলডি, সুন্দর বাংলা গান বাজারে আসত। গানপাগল লোকজন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোন শিল্পীর নতুন গান বাজারে আসবে সে খবরাখবর রাখত এবং দিন গণনা করত। হিন্দি গান দুর্গাপূজায় বাজানো হতো না।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন অফিস থেকে টাকা সংগ্রহ করা হতো। নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কয়েকজন স্টাফ হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পূজার আয়োজন যারা করত তারা এদের কাছেই চাঁদার জন্য আসতো। একদিন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রী আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে আসে পূজার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে। ডাক্তার অপূর্ব দুষ্টুমি করে এদেরকে বলে, বস-এর কাছে যাও, বস পূজার জন্য টাকা দেবে। তারা সরল বিশ্বাসে বসের কাছে যায়। বস তাদেরকে বসতে বললেন। চা-নাস্তা খাওয়ালেন। উল্লেখ্য, এদের অধিকাংশজন বসের পূর্বপরিচিত। বস বললেন, দেখো আমি বেতনের টাকায় চলি, প্রাইভেট প্রাকটিস করি না, অফিসেও চাঁদা দেওয়ার জন্য বাজেট নেই। তোমরা আসছ একটা কিছু তো দিতেই হবে। আমি তোমাদেরকে তোমাদের ভাবির একটা নতুন শাড়ি দিচ্ছি, তোমরা এটা বাজারে বিক্রি করে দিও। এতে কিছু টাকা পাবে। ছেলেমেয়ের দল হাসতে-হাসতে বসের রুম ত্যাগ করে অপূর্ব বাবুর রুমে আসে। আমি অপূর্ব বাবুর রুমে বসা ছিলাম। এদের মুখে সব শুনে হাসি আর ধরে রাখতে পারিনি। বস হানিফ সাহেবের মতো মজার মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। ছেলেমানুষিতে তিনি যেমন পারঙ্গম ছিলেন, তেমনি প্রশাসনিক কাজেও দক্ষ ছিলেন।
বস হানিফ সাহেব তার মোটরসাইকেল নষ্ট হলে নিজেই সারতেন। আউয়াল তাকে সাহায্য করত। কাজটা তিনি করতেন মেকানিকের দোকানে গিয়ে। তিনি মেকানিকের কাছ থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে মাটিতে গামছা বিছিয়ে তার ওপর বসে মোটরসাইকেল সারতেন। দেখলে মনে হতো দক্ষ মেকানিক মোটরসাইকেল সারছে। বস বলতেন, সব কাজ শিখে রাখা ভালো। উন্নত বিশ্বে নিজের কাজ নিজেকে করতে হয়। যত ফুটানি বাংলাদেশে! বস মোটরসাইকেল সেরে জোর করে মজুরি দিতেন মেকানিককে। মেকানিকের সাহায্য তাকে মাঝেমধ্যে নিতে হতো। তাই তিনি বলতেন, টাকাটা রাখেন, আপনি আমার ওস্তাদ, আপনার সাহায্য ছাড়া আমি একা মোটরসাইকেল সারতে পারতাম না।
বস স্টেশনে থাকলে বসকে নিয়ে দুর্গাপূজা দেখতে যেতাম। নিকলীতে আদর-আপ্যায়নের ঘাটতি কখনো দেখিনি। নারিকেলের নাড়ু ও এর চিড়ার স্বাদ এখনো জিহ্বায় লেগে আছে। হাওর এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যান্ত্রিকতা বিবর্জিত। হাওর এলাকা, নদীবিধৌত এলাকা এবং সেই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের মন শহরের মানুষের মতো যান্ত্রিক নয়। সহজ-সরল লোকজন আপ্যায়ন করতে পছন্দ করে। কারো বাড়িতে রোগী দেখতে গেলে অন্ততপক্ষে একটা পান খেয়ে আসতে হতো। হাওর এলাকায় বাস করে এবং বসের সঙ্গে থেকে পান খাওয়ার অভ্যাস আমারও হয়েছিল। সিগারেটও চলতো পানের সঙ্গে। বস পানের সঙ্গে সিগারেটের পরিবর্তে কড়া জর্দা খেতেন।
নিকলীর দুর্গাপূজার স্মৃতি এখনো মনে ভাস্বর হয়ে আছে। যায় দিন সব সময় নাকি ভালো যায় কথাটা চালু আছে। নিকলীর বিভিন্ন উৎসব ও সহজ-সরল মানুষের আপ্যায়নে দুঃখ-কষ্টগুলো ভুলে থাকতাম। শত ঝামেলার মধ্যে দিয়ে পার করতে হয়েছে নিকলীর সময়গুলো। একসময় মনে হতো চাকরিটা ছেড়ে দিই। যখন গভীরভাবে চিন্তা করতাম তখন মনে হতো চাকরিটা অনেক মূল্যবান, ইচ্ছে করলেই ছাড়া যাবে না। অনেকটা অনেক টাকা দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করা বউয়ের মতো। যাকে ইচ্ছে করলেই যখন-তখন তালাক দেওয়া যায় না। স্মৃতি রোমন্থন করার মধ্যে আনন্দ আছে। দুঃখকে, কষ্টকে আমরা গুরুত্ব দিই না বেঁচে থাকার তাগিদে। সুখস্মৃতিগুলো সদা জাগ্রত থাকে আমাদের মনে।
কনসালটেন্ট, অর্থপেডিক্স সার্জারি
মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হাসপাতাল
২৬০ চরপাড়া, ময়মনসিংহ।


Loading...
Loading...

মতামত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: