বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা এবার স্বীকৃতি পেল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা, আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার এবং প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম।
‘Raising the bar in Bangladeshi healthcare’ শিরোনামের এই ফিচারটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের একটি ক্যান্সার হাসপাতাল এবং একজন তরুণ নেতৃত্বের এভাবে উঠে আসা নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কূটনীতি ও মানবিক উন্নয়ন নিয়ে নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতার জন্য সুপরিচিত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটির পাঠকসংখ্যা কয়েক মিলিয়নেরও বেশি, এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে করপোরেট, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে গালফ নিউজের বিশেষ ফিচারগুলো আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এমন একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রতিনিধিত্ব করা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন।
প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে, কীভাবে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা, আন্তর্জাতিক মানের কেয়ার, রোগীকেন্দ্রিক সেবা এবং দক্ষ মেডিকেল টিমের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষ অনকোলজি সেন্টারে পরিণত হয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে হাসপাতালটির JCI Accreditation অর্জনের বিষয়টি, যা বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবায় একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিবেদনে সাকিফ শামীম-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘Achieving JCI accreditation was the toughest and most rewarding journey.’
এই বক্তব্য শুধু একটি সাফল্যের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠার প্রতি এক অদম্য প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
গত কয়েক বছরে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল দেশের স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধি, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা, রোবোটিক সার্জারি, পেট সিটি, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, কেমোথেরাপি ডে কেয়ার এবং সমন্বিত ক্যান্সার কেয়ারের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠেছে।
দেশে বসেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার যে প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছে, তা চিকিৎসা পর্যটনের ওপর নির্ভরতা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
একইসঙ্গে, সাকিফ শামীম-এর দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জোর দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্যখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে সামনে এনে তিনি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখছেন, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত আজ যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর সেই যাত্রার অন্যতম মুখ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাকিফ শামীম-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবার একটি উদীয়মান গন্তব্য।
এই অর্জন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।