
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর সোমবার দুপুরে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিলতেই হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসলের যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা রক্ষা করতে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
সোমবার (৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, হবিগঞ্জের বানিয়াচং এবং নবীগঞ্জ উপজেলা-এর বিভিন্ন হাওর এলাকায় কৃষক-কৃষাণীরা পানির নিচ থেকে কেটে আনা ধান খলায়, রাস্তার পাশে এবং উঁচু স্থানে এনে রোদে শুকানোর চেষ্টা করছেন। অনেকেই নৌকায় করে জমি থেকে ধান সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির আধাপাকা ও পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের যে স্বপ্ন ছিল, তা অনেকটাই ভেস্তে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, অনেক জমির ধান পাকতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি ছিল। কিছু জমির ধান ইতোমধ্যে পেকেও গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে হাওরে পানি প্রবেশ করায় বাধ্য হয়ে অনেকেই কাঁচা ও আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। তবে টানা বৃষ্টি ও পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
কৃষকরা বলেন, বছরের একমাত্র বোরো ফসল ঘিরেই তাদের পরিবারের সারা বছরের জীবিকা নির্ভর করে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর হবিগঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দীপক কুমার পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে তাদের সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।
এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, না হলে তাদের পক্ষে লোকসান কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
এমটিআই